ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশে নদী ১,৪১৫টি, অবৈধ দখলদার প্রায় ২২ হাজার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

২০২৬ জুন ২৫ ১৭:২০:৩১

দেশে নদী ১,৪১৫টি, অবৈধ দখলদার প্রায় ২২ হাজার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে মোট নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫ এবং নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ২১ হাজার ৯৮৮ জন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রেখে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং নদী কর্মীদের সহায়তায় প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে নদীর এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

নদী রক্ষায় আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘নদীর স্বার্থ রক্ষা ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান।’

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা, দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত, দূষণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়, মামলা দায়ের এবং মামলার তদারকির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা হালনাগাদ করেছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নদ-নদীর মোট ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পাওয়ার পর দখলদার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, নৌপথের নাব্যতা সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে প্রতিবছর নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিং পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে দেশের নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং বর্ষা মৌসুমে তা ৮ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছায়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে যাত্রীবাহী লঞ্চ বহরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বড় আকারের লঞ্চ যুক্ত হয়েছে। এর ফলে নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে।

তিনি আরও বলেন, এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ চলাচলে মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও কমে আসবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত