ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ইরানের পর ইসরায়েলের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী কে: তুরস্ক না পাকিস্তান?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বা আর্চ নেমেসিস কে হতে পারে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। এতদিন ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের সমীকরণ গড়ে উঠেছিল, এখন সেই বাস্তবতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পর ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম সামনে আসছে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক মাআরিভ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তি এবং এর পরবর্তী শক্তির ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেন।
গোলানির মতে, গত তিন দশক ধরে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান ইসরায়েলের প্রধান শত্রুর ভূমিকায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন “গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত”। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, যা নতুন কোনো রাষ্ট্র পূরণ করতে পারে।
তার বিশ্লেষণে তুরস্ক এবং পাকিস্তানকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, মনে হচ্ছে প্রতিযোগিতাটি এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তার মতে, এই দুই দেশই বড় জনসংখ্যা, শক্তিশালী সামরিক কাঠামো এবং সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের কারণে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গত এক সপ্তাহে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজা যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়াকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানও এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনে যুক্ত হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করলেও পাকিস্তানের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে এক পোস্টে (পরে মুছে ফেলা হয়) ইসরায়েলকে “শয়তান” এবং মানবতার অভিশাপ বলে আখ্যা দেন।
এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে আসে, যখন পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মাআরিভে প্রকাশিত নিবন্ধে গোলানি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেমে গেলেও ইসরায়েলকে পরবর্তী সম্ভাব্য হুমকির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার মতে, ভবিষ্যতে তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও লেখেন, এই দুই দেশের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়া আমাদের হাতে নেই, এবং উভয় বিকল্পই সমানভাবে কঠিন। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, যা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করতে হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম জেনে নিন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- COP31 সামনে রেখে বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার নিয়ে সংলাপ
- বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়