ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২
ধূমপান যেভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়
ডুয়া ডেস্ক: ধূমপানকে হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে প্রদাহ তৈরি হয় এবং অজান্তেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নতি শুরু করে।
বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ এখন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ধূমপান সরাসরি ধমনীতে প্লাক জমা, রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তনালীর ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এমনকি দিনে অল্প কয়েকটি সিগারেট গ্রহণকারীরাও হৃদরোগের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান শুধু রক্তনালীর বাইরের স্তর নয়, ভেতরের এন্ডোথেলিয়ামও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সিগারেটের প্রতিটি ধোঁয়ায় থাকা ৭,০০০-এর বেশি রাসায়নিক উপাদান সরাসরি এই কোষগুলোর ওপর আঘাত হানে, ফলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কোলেস্টেরল জমে ধমনীগুলো সরু হয়ে যায়। ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এন্ডোথেলিয়াল কার্যকারিতা নষ্ট হতে শুরু করে।
এছাড়া ধূমপান রক্তকে দ্রুত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে। নিকোটিন প্লেটলেটকে অতিরিক্ত আঠালো করে তোলে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই রক্তে প্লেটলেট সক্রিয়তা বেড়ে যায় এবং এটি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে।
কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক পরিবহন ব্যাহত করে, কারণ এটি হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে যুক্ত হয়। ফলে হৃদপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদপেশী দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নিকোটিন শরীরে দ্রুত রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদপিণ্ডের গঠনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, নিকোটিনের প্রভাবে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ধূমপান শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ধমনীর দেয়ালে কোলেস্টেরল জমার প্রক্রিয়া দ্রুত করে তোলে। পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গবেষণায় ধূমপায়ীদের শরীরে প্রদাহ সূচক (hs-CRP) অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যা হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
এছাড়া ধূমপান কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়িয়ে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়। এতে অস্থিতিশীল প্লাক তৈরি হয়ে ধমনী ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান হৃদপেশী দুর্বল করে কার্ডিওমায়োপ্যাথির মতো জটিল রোগের কারণ হতে পারে। অক্সিজেন ঘাটতি, বিষাক্ত রাসায়নিক এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপ এই ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল
- অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- ইরানের ভেতরে আটকা মার্কিন ক্রু, উদ্ধার অভিযানে তুমুল লড়াই
- বিভাজন নয়, ভ্রাতৃত্বের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু