ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
‘চামড়া নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে রপ্তানির অনুমতি দেবে সরকার’
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচায় যদি ধীরগতি দেখা যায় কিংবা বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে প্রয়োজনে সরকার চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়েও সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে সিলেটে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, কোরবানির সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগ্রহ হওয়া চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং সময়মতো বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পে যেসব দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করে এই খাতকে সম্ভাবনাময় বড় রপ্তানি খাতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানে কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সাভারে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তায় সমীক্ষা চলছে। এর মাধ্যমে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত ও উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে সমাধান করা যাবে বলে আশা করছে সরকার। ঈদের দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
চামড়া শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান পরিশোধন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যেসব ট্যানারি ক্ষতির মুখে পড়ে পুরোপুরি সচল হতে পারেনি, তাদের মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও অর্থায়নের আওতায় এনে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রয়েছে।
শুধু পুরোনো প্রতিষ্ঠান নয়, এই খাতে নতুন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ টানতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষায়, চামড়া শিল্পকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানির পুরো ব্যবস্থাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের জন্য একটি বড় সম্পদ। যদি এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে শুধু ঈদের সময় নয়, বছরের বিভিন্ন সময় বিদেশে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়বে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
এ সময় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেন তাদের পাওনা দ্রুত বুঝে পান, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে অংশ নিলেই মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- দেশে বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী