ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে এবং সরবরাহ সংকট সামাল দিতে ইরানের কিছু তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে রফতানির উদ্দেশে সমুদ্রের বিভিন্ন জাহাজে আটকে থাকা ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্বল্পমেয়াদী নির্দেশনা জারির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এ পদক্ষেপকে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এ থেকে কতটা সুফল মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ আয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করেন তারা।
এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে।
শুক্রবার বেসেন্ট জানান, এ অনুমতি শুধু বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এ অনুমোদন আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দফতর।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এ পদক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল দ্রুত বিশ্ব বাজারে আসবে।
যুদ্ধের আগে ইরান থেকে সরবরাহ করা তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে খুব কম দামে এই তেল কিনে নিত বেইজিং।
বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের জ্বালানি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর আরও বেশি তেল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
একই সঙ্গে চীনকেও প্রকৃত ‘বাজার দর’ পরিশোধে বাধ্য করবে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রির অর্থ যাতে ইরান সরকারের হাতে না পৌঁছায়, সে বিষয়ে কোনো নিয়ম থাকবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি বেসেন্ট।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেস-এর পরিচালক ডেভিড ট্যানেনবাম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘সহজ কথায় বলতে গেলে, এটা একটা উদ্ভট ব্যাপার। মূলত আমরা ইরানকে তেল বিক্রি করার অনুমতি দিচ্ছি, যা পরবর্তীতে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।’
এই পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দাম অপরিবর্তিত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।’
এদিকে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই ছাড়ের ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।
মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’-এর সহযোগী সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, ‘আমি মনে করি না এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে। বরং এর ফলে অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসছে।’
এই তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরান সরকারের কাছে যাক, যুক্তরাষ্ট্র এমনটি চাইবে বলে মনে করেন না জিয়েম্বা। কিন্তু বাস্তবে এটি ঠেকানো কঠিন হতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপক সরবরাহ ঘাটতির কারণে মার্কিন সরকার এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে যেখানে প্রতিটি ব্যারেলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই তারা যেখানেই সম্ভব অতিরিক্ত তেল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’
সরবরাহ বাড়াতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পাশাপাশি নিজেদের কাছে মজুদ থাকা লাখ লাখ ব্যারেল তেলের মজুদও ছেড়ে দিয়েছে তারা।
যদিও রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি ইউরোপের নেতাদের কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। তারা বলেছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনকে শক্তিশালী করবে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে।
বিশ্বে প্রতিদিন যে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়, তার পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে, যা ইরানের উপকূল বরাবর অবস্থিত।
কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ রুট দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিছু তেল বিকল্প পথে পাঠানো হলেও, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ কমে গেছে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি সরবরাহের এই ঘাটতি আরও কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সমাধান খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে নতুন চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের ঈদের শুভেচ্ছা
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা