ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সামরিক চাপে ইরান এখন সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে: ট্রাম্প

২০২৬ মার্চ ০১ ১০:২৩:২১

সামরিক চাপে ইরান এখন সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তেহরানের রাজনৈতিক আকাশে চরম অনিশ্চয়তা আর রণক্ষেত্রের গগনবিদারী বিস্ফোরণের মাঝেই ইরানের সাথে এক ‘সহজ’ কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সমীকরণ সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তেহরান এখন ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন তিনি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সরাসরি গণমাধ্যমের সামনে না এলেও বিভিন্ন মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে দেওয়া একাধিক ফোনকলে ট্রাম্প বর্তমান সংকট উত্তরণে নিজের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান।

সিবিএস নিউজের বব কস্তাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির সাফল্য দাবি করে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এক দিন আগের তুলনায় এখন কূটনৈতিক সমঝোতা অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। কারণ, তারা (ইরান) বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, তেহরানের নেতৃত্ব এখন যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আগে কখনো দেখেনি তারা।

এই সামরিক উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে চলতি সপ্তাহে ব্যর্থ হওয়া পারমাণবিক আলোচনা। কোনো ধরণের চুক্তি ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরণের আগ্রাসনের পথে হাঁটে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, এই অব্যাহত সামরিক চাপই ইরানকে তাদের একগুঁয়েমি ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং আমেরিকার দেওয়া কঠিন শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করবে।

আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রসঙ্গ। ট্রাম্প নিজেই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, যদিও ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা উত্তরসূরির নাম আসেনি। খামেনির শূন্যস্থান কে পূরণ করবেন এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কারো নাম প্রকাশ করেননি। তবে তিনি এক রহস্যময় ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, তাঁর পছন্দের ‘যোগ্য কিছু প্রার্থী’ রয়েছেন, যাঁদের তিনি আগামী দিনে ইরানের ক্ষমতায় আসীন দেখতে চান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের আশা ব্যক্ত করলেও ইরানের বাস্তব চিত্র এখনো বেশ ভয়াবহ। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে আজও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে ওয়াশিংটনের সকল শর্ত নিঃশর্তভাবে মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আকাশপথে আক্রমণ ও বিধ্বংসী সামরিক চাপ বিন্দুমাত্র শিথিল করা হবে না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত