ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
ভরণ-পোষণ না দিলে সন্তানের কী শাস্তি হয়? জেনে নিন আইন
ডুয়া ডেস্ক: শৈশবে যে হাত দুটি আমাদের আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছে, জীবনের শেষ সময়ে সেই বাবা-মায়ের অবহেলা ঠেকাতে রাষ্ট্র প্রণয়ন করেছে একটি বিশেষ আইন। ২০১৩ সালে প্রণীত ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ শুধু একটি আইনি কাঠামো নয়, বরং এটি প্রবীণ বাবা-মায়ের অধিকার ও সন্তানের দায়িত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
সমাজে প্রায়ই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অবহেলা, দেখভালের অভাব কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা যায়। এ প্রেক্ষাপটে আইনটি সন্তানের ওপর কিছু নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, যা না মানলে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মাত্র ৯টি ধারার এই আইনের ৬টি ধারায় মূলত ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগ করে নেবে।
এ ধারায় আরও বলা হয়েছে, সন্তানরা পিতা-মাতাকে একসঙ্গে একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করবে। কোনো অবস্থাতেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোথাও আলাদা বা একত্রে বসবাসে বাধ্য করা যাবে না।
এছাড়া সন্তানেরা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করবে। পৃথকভাবে বসবাস করলে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং তাদের আয়ের একটি যুক্তিসঙ্গত অংশ মাসিক বা নিয়মিতভাবে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণে ব্যয় করতে হবে।
আইনে শুধু পিতা-মাতাই নন, প্রয়োজনে দাদা-দাদী এবং নানা-নানীর ভরণ-পোষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পিতা বা মাতার অবর্তমানে যথাক্রমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সন্তানদের ওপর বর্তাবে, যা পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের সমান হিসেবেই গণ্য হবে।
৫ নম্বর ধারায় এ আইন অমান্য করার দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো সন্তান ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন না করলে তাকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া ৫(২) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো নিকট আত্মীয় যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণে বাধা দেয় বা অসহযোগিতা করে, তবে তাকেও একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
তবে আইনটি শুধু শাস্তিমূলক নয়, এটি আপস-নিষ্পত্তির সুযোগও রেখেছে। ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই অপরাধ জামিনযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আপসযোগ্য। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারযোগ্য হলেও শুধুমাত্র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করা যাবে।
৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে অভিযোগ আপস-নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পাঠাতে পারবে। তারা উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন এবং সেই নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- রোববার বিদ্যুৎ থাকবে না অর্ধশতাধিক এলাকায়
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা