ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
৫ আগস্টের সেনাসদরের বৈঠক নিয়ে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনাসদরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব উঠেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপি সে সময় জাতীয় সরকারের পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ, সেনাপ্রধানের ভূমিকা এবং বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নিজ বাসায় ছিলেন। এর আগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ ছিল। সকাল ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর তাকে জানান, সেনাপ্রধান ফোন করবেন। পরে সেনাপ্রধান ফোন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে চান এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। রাস্তায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সেনাপ্রধান তার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেন। বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের অবস্থান চূড়ান্ত করেন।
মির্জা ফখরুল জানান, সেনাসদরে পৌঁছে তিনি দেখেন তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তখন পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের কেউ সেখানে পৌঁছাননি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কিন্তু বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা জাতীয় সরকারের অংশ হবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষেই মত দেবে। কে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব তুলেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে মনে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না বা অন্য কেউ বিষয়টি উত্থাপন করে থাকতে পারেন বলে জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা উল্লেখ করেন। সেনাপ্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরও বক্তব্যে যুক্ত রাখতে চাইলেও বিএনপি তাতে সম্মতি দেয়নি। দলের মতে, সে সময় সেনাপ্রধানের একাই বক্তব্য দেওয়া উচিত ছিল।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাপ্রধান অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে একত্র করেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালান। বৈঠকের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর সেই মুহূর্তটি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হয়েছিল।
এরপর সবাই বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হলেও মানুষের ঢলের কারণে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে গাড়ি বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার পাশে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না, মির্জা ফখরুল এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনতাকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বঙ্গভবনে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন।
বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তোলেন মির্জা ফখরুল। এ বিষয়ে সেনাপ্রধান সম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতিও বলেন, সবাই একমত হলে তিনি এ বিষয়ে আপত্তি করবেন না।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রনেতারাই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মুজাম্মেল হক
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- অনলাইনে ও এসএমএসে এসএসসির ফল দেখবেন যেভাবে
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ