ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধের ডাক দিল তালেবান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ২১:৪২:৪৬

এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধের ডাক দিল তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। সীমান্তে একের পর এক পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলার পর এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের প্রভাবশালী মুখপাত্র মৌলভী জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডুরান্ড লাইন থেকে শুরু করে দুই দেশের রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তপ্ত।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলোতে অতর্কিত আক্রমণ চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পৈশাচিক এই হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন সেনাকে ধরে নিয়ে যায় আফগান বাহিনী। তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের চালানো বর্বরোচিত বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ওই অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি আফগান নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারের হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানও তার পূর্ণ সামরিক শক্তি নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুক্রবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে ইসলামাবাদ শুরু করে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’। এই অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী (পিএএফ) রাজধানী কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহার প্রদেশের তালেবান ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে সীমান্তের ওপারে থাকা আফগান সামরিক অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ‘অপারেশন গজব-লিল হক’-এর মাধ্যমে আফগান বাহিনীকে বড় ধরণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি হামলায় এ পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর লোক নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৪০০ জনেরও বেশি। আইসিপিআর আরও দাবি করেছে যে, তালেবানের ৭৩টি সামরিক পোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৮টি পোস্ট এখন পাকিস্তানের দখলে রয়েছে।

পাকিস্তানের এই বিধ্বংসী হামলায় আফগান বাহিনীর সমরাস্ত্রেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তালেবানের অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং বড় আকারের কামানের গোলা (আর্টিলারি) ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে তালেবানের পাল্টা অভিযানের ঘোষণার পর মনে করা হচ্ছে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে। মধ্যস্থতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আহ্বান জানালেও দুই পক্ষই এখন রণক্ষেত্রে একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত