ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা জানাল ভারত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৮:৪৩:২০

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা জানাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসের আবহে আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা ও বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান এই সংঘাতের কঠোর নিন্দা জানিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরানোর এক অপচেষ্টা মাত্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই কড়া প্রতিবাদ জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা।’ জয়সওয়াল আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত বরাবরের মতোই আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি নিজের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। দিল্লির এই অবস্থানকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক ধরণের কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, পাকিস্তান এখন ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে এক সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় ইতিমধ্যে ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক সদস্য। এছাড়া আফগানিস্তানের একটি বিশাল গোলাবারুদ ডিপোও ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। মূলত বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্তে পাকিস্তানি চৌকিতে হামলার জেরে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি।

আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের পূর্ববর্তী কিছু উস্কানিমূলক হামলার জবাব দিতেই তারা সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তবে শুক্রবারও দুই দেশের সীমান্তে গোলাবর্ষণ ও আকাশপথে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এক অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বেসামরিক প্রাণহানির দাবি করেছে।

এই চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘসহ চীন, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশগুলো দুই প্রতিবেশীর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সংকেত দেয়নি। ফলে রণক্ষেত্রটি ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত