ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: কীভাবে চলবে, কী আছে অধ্যাদেশে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে একটি সমন্বিত উচ্চশিক্ষা কাঠামোর আওতায় আনতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে ঢাকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
সাত কলেজের পরিচয় ও সম্পদ:
নতুন এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ এখন থেকে ‘সংযুক্ত কলেজ’ (Attached College) হিসেবে পরিচালিত হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কলেজগুলোর বর্তমান নাম, ঐতিহাসিক পরিচয়, নিজস্ব অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের পূর্ণ অধিকার বজায় থাকবে।
প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কাঠামো:
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়নের ক্ষমতা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হাতে। কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক ‘স্কুল’ থাকবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’।
ভর্তি ও পরীক্ষা পদ্ধতি:
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও ফলাফল মূল্যায়ন একটি অভিন্ন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থী সুবিধা ও ছাত্র সংসদ:
শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। এছাড়া সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে, তবে নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সাত কলেজের দীর্ঘদিনের সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন হবে। এটি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক, গবেষণা-সমৃদ্ধ সমন্বিত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দেখুন এখানে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত