ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ডলারের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ডলারের দর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয়ের ডলার সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে ডলারের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কেনা হচ্ছিল। তবে সোমবার সেই দর বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠে গেছে। একই সময়ে আন্তঃব্যাংক বাজার ও খোলাবাজারেও ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন যার দর ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে বেশ কিছুদিন ধরে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
খোলাবাজারেও নগদ ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে সেখানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সার মধ্যে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানির ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে পড়ে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও এর চাপ পড়তে পারে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দিচ্ছে। এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রেও ডলারের দাম বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে প্রতি ডলারের দর ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।
একজন আমদানিকারক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো হঠাৎ করেই আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এর ফলে আমদানির খরচ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে এর প্রভাব পড়বে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো এখন ডলারের বিপরীতে বেশি দাম দিচ্ছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা সম্ভব ছিল, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে আমদানির ক্ষেত্রেও ডলারের দর বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও কিছুটা বেড়েছে। গত ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি না বাড়ানোর বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এখনো বাজারে ডলারের দাম ওই সীমার ওপরে ওঠেনি। তবে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়লে এবং সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সে ক্ষেত্রে রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর পাশাপাশি ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার