ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
গবেষকদের নীতি-নৈতিকতা নিশ্চিতে ইউজিসির বিশেষ নীতিমালা আসছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অন্যের তথ্য বা লেখা চুরির মহোৎসব বন্ধ করতে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম ঠেকাতে প্রথমবারের মতো একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ড. মাছুমা হাবিব উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিচ্ছিন্নভাবে নিজস্ব নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার সার্বজনীন মান রক্ষা করতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘ইউজিসি’র উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি হবে না।’
ইউজিসির এই নতুন উদ্যোগ বিশেষ করে যারা নতুন গবেষণায় আসছেন তাদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় সাইটেশন বা অন্যের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে। মাছুমা হাবিবের মতে, ‘এ নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়মসহ গবেষণার নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে গবেষকরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। এটি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে। দেরিতে হলেও ইউজিসি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা বিষয়ে কাজ করছে। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।’
ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় খসড়া নীতিমালার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের সরাসরি মতামত নেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে তিনি জানান, ‘উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।’
এসপিকিউএ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহর সঞ্চালনায় এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় দেশের ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। গবেষণায় শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার লক্ষে ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও সেখানে তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। ইউজিসি আশা করছে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে বাংলাদেশের গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বীকৃত হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান