ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পের টার্গেটে এবার আরও ৫ দেশ!

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৬:২৪:৫৪

ট্রাম্পের টার্গেটে এবার আরও ৫ দেশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে আক্রমণাত্মক ও উচ্চাভিলাষী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক নাটকীয় রাতের অভিযানে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত কম্পাউন্ড থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে তিনি আগেই দেওয়া হুঁশিয়ারিকে বাস্তবে রূপ দেন। এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রশ্নাতীত।

অভিযানের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক মনরো ডকট্রিনের প্রসঙ্গ টেনে এনে এটিকে নতুন নামে অভিহিত করেন ‘ডনরো ডকট্রিন’। তার ভাষায়, পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দায়িত্ব। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের প্রভাববলয়ের আরও কয়েকটি দেশকে নিয়ে তিনি কড়া বার্তা দেন।

গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস নামে একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ট্রাম্পের লক্ষ্য পুরো দ্বীপটি। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। তার দাবি, অঞ্চলটি রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে যাচ্ছে। ডেনমার্কের অংশ এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে আলোচনা হতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নই নেই। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেনও সতর্ক করে বলেন, কোনও ন্যাটো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলার অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করেন ট্রাম্প। তেল, স্বর্ণ ও কয়লার বড় মজুদের দেশ কলম্বিয়াকে তিনি মাদক উৎপাদন ও পাচারের কেন্দ্র হিসেবে আখ্যা দেন। পেত্রোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ‘এক অসুস্থ মানুষের’ হাতে চলছে এবং প্রয়োজনে সেখানে অভিযান চালানো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ভালোই শোনাচ্ছে’।

ইরান

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরানকে নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চললে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকেই দেশটির বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন তিনি।

মেক্সিকো

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ছিল ট্রাম্পের পুরনো প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় ফিরে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করেন। মাদক ও অবৈধ অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে মেক্সিকোর কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

কিউবা

ফ্লোরিডা উপকূলের কাছের দেশ কিউবা নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার মতে, কিউবা এমনিতেই পতনের মুখে, তাই সেখানে আলাদা কোনও সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশটি মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

শেষদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট যখন এ ধরনের কথা বলেন, তা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, কিউবা ও তার মিত্রদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই উদ্বেগজনক।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত