ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
ভয়াবহ আগু’নে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ আগুনের ক্ষত শেষ হতে না হতেই আরেক রাজ্য আগুনে পুড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজ ভয়াবহ দাবানলে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ৯৬ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটির পাশাপাশি আশপাশের আরও ৫০ থেকে ৮০টি অবকাঠামো আগুনে পুড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (NPS)।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নর্থ রিম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শত শত পর্যটক ও বাসিন্দাকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নর্থ রিম এবং আশপাশের এলাকায় দুইটি দাবানল- ‘ড্রাগন ব্রাভো ফায়ার’ ও ‘হোয়াইট সেজ ফায়ার’ তাণ্ডব চালাচ্ছে। এর মধ্যে ড্রাগন ব্রাভো ফায়ার সরাসরি ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজসহ আশপাশের বহু স্থাপনা পুড়িয়ে দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৪ জুলাই বজ্রপাত থেকে ড্রাগন ব্রাভো ফায়ারের সূত্রপাত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ৫০০ একর (প্রায় ২০০ হেক্টর) এলাকায়। দাবানলটি ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার বেগে বিস্তার লাভ করে এবং দমকা হাওয়ার গতি ছিল সর্বোচ্চ ৬৪ কিমি/ঘণ্টা।
অন্যদিকে, হোয়াইট সেজ ফায়ার শুরু হয় ৯ জুলাই। ১৩ জুলাই পর্যন্ত তা ছড়িয়ে পড়ে ৪০,১৮৬ একর এলাকায়। যদিও এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (NPS) জানিয়েছে, সকল পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দাবানলে ধ্বংস হওয়া গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজ একটি মৌসুমি হোটেল। এটি ১৯২৮ সাল থেকে নর্থ রিমে পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছিল। ১৯৩২ সালে রান্নাঘরের আগুনে প্রথম লজটি ধ্বংস হয় এবং পরে ১৯৩৭ সালে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। চলতি বছর ১৫ মে চালু হওয়া লজটি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত খোলা থাকার কথা ছিল। তবে এবার মূল ভবনসহ আশপাশের ১২০টি কেবিন আগুনে পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৫০০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার হোয়াইট সেজ ফায়ার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আকাশপথে বিশেষ রাসায়নিক ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টাও চলছে। ড্রাগন ব্রাভো ফায়ার নিয়ন্ত্রণেও দমকলকর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। তবে গরম আবহাওয়া, শুষ্কতা এবং ঝোড়ো বাতাস পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক বিস্ময় বলা হয়। এটি কোলোরাডো নদী দ্বারা গঠিত। এটি প্রায় ৪৪৬ কিমি দীর্ঘ, ২৯ কিমি প্রস্থ এবং ১.৬ কিমি গভীর এবং পৃথিবীর প্রায় ২ বিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এর গঠনে দৃশ্যমান।
এটি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এছাড়াও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিবছর কোটি কোটি পর্যটক এই পার্ক ভ্রমণ করেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত