ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ঘাড়-কাঁধে ব্যথা বা হাতে ঝিনঝিনি? হতে পারে থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৯:৪০:৫২

ঘাড়-কাঁধে ব্যথা বা হাতে ঝিনঝিনি? হতে পারে থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম

ডুয়া ডেস্ক: ঘাড়, কাঁধ কিংবা হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিন অনুভূত হলে অনেকেই এটিকে সার্ভাইক্যাল স্পন্ডেলাইসিস বা ডিস্কজনিত সমস্যা বলে ধরে নেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গের নেপথ্যে থাকতে পারে থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম। সময়মতো রোগটি শনাক্ত না হলে দীর্ঘদিন ব্যথা, হাতের দুর্বলতা এবং এমনকি হাতের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

ঘাড়ের নিচে কলার বোন (ক্ল্যাভিকল) ও প্রথম পাঁজরের মাঝখানে একটি সরু পথ রয়েছে, যাকে থোরাসিক আউটলেট বলা হয়। এই পথ দিয়েই হাতে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু (ব্রাকিয়াল প্লেক্সাস), ধমনি (সাবক্লেভিয়ান আর্টারি) এবং শিরা (সাবক্লেভিয়ান ভেইন) অতিক্রম করে। কোনো কারণে এই পথ সংকুচিত হলে স্নায়ু বা রক্তনালির ওপর চাপ পড়ে এবং তখন থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোমের সৃষ্টি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, জন্মগতভাবে অতিরিক্ত একটি পাঁজর থাকা (ক্ল্যাভিকল রিব), ঘাড় বা কাঁধে আঘাত, দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো, বারবার মাথার ওপর হাত তুলে কাজ করা, এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন, কাঁধের চারপাশের পেশির অতিরিক্ত টান বা দুর্বলতা এবং স্থূলতা কিংবা গর্ভাবস্থাজনিত ভঙ্গির পরিবর্তন এ রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

রোগের লক্ষণ নির্ভর করে স্নায়ু নাকি রক্তনালি কোনটি বেশি চাপে রয়েছে তার ওপর। স্নায়ু আক্রান্ত হলে ঘাড়, কাঁধ ও হাতে ব্যথা, হাতে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব, আঙুলে সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া, জিনিস ধরতে অসুবিধা এবং দীর্ঘক্ষণ হাত ওপরে তুললে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে রক্তনালি আক্রান্ত হলে হাত ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, হাত ফ্যাকাশে বা নীলচে দেখানো, হাত ফুলে যাওয়া, দ্রুত ক্লান্তি এবং নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

রোগ নির্ণয়ে রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ঘাড় ও কাঁধ পরীক্ষা করার পাশাপাশি হাতের শক্তি ও অনুভূতি মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন হলে এক্স-রে, নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি ও ইএমজি, আলট্রাসাউন্ড ডপলার, সিটি বা এমআর এনজিওগ্রাফি এবং এমআরআই করানোর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ মাথার ওপর হাত তুলে কাজ না করা, কম্পিউটারের মনিটর চোখের সমতলে রাখা, প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর দুই মিনিট বিরতি নিয়ে ঘাড় ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করা, এক কাঁধে ভারী ব্যাগ না বহন করা, সোজা হয়ে বসা ও দাঁড়ানো, কুঁজো হয়ে কাজ না করা, অতিরিক্ত উঁচু বা শক্ত বালিশ ব্যবহার এড়িয়ে চলা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত