ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
জাতীয় ফল কাঁঠাল: স্বাদ, ঐতিহ্য আর সম্ভাবনার অনন্য গল্প
ডুয়া ডেস্ক: চেহারায় অমসৃণ, কাঁটায় ভরা এবং অনেকের কাছে কিছুটা বেঢপ তবু স্বাদ, গন্ধ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে কাঁঠাল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। কেউ একে ভীষণ ভালোবাসেন, আবার কারও কাছে এর গন্ধই অসহ্য। এমন বৈপরীত্যের মধ্যেই কাঁঠালের আলাদা এক পরিচয় গড়ে উঠেছে।
কাঁঠাল নিয়ে মানুষের এই ভিন্ন অনুভূতির কথা উঠে এসেছে কবি শামীম আজাদের স্মৃতিকথায়। তাঁর পর্যবেক্ষণে, কাঁঠাল এমন একটি ফল, যাকে হয় গভীরভাবে ভালোবাসতে হয়, নয়তো একেবারেই অপছন্দ করতে হয় মাঝামাঝি অবস্থান যেন খুব কমই দেখা যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি দেশের খাদ্যসংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির খাদ্যতালিকায় কাঁঠালের উপস্থিতি রয়েছে। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকে ‘গরিবের মাংস’ বলে থাকেন। এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটাই মাংসের মতো এবং এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল মিষ্টি স্বাদ ও স্বতন্ত্র সুবাসের জন্য পরিচিত। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে এতে তুলনামূলক বেশি প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি কাঁঠালে রয়েছে ফাইবার বা খাদ্যআঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।
বর্তমানে কাঁঠালের ব্যবহার শুধু ফল বা তরকারিতে সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি স্টলে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের খাবার প্রদর্শন করা হয়। সেখানে কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, পাকোড়া, ললিপপ, শাশলিক, পেস্ট্রি, কেক, হালুয়া, নকশিপিঠা, পাটিসাপটা, রুটি এবং আরও বিভিন্ন পদ স্থান পায়।
জাতীয় ফলকে ঘিরে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ কাঁঠালের বহুমুখী সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।
উৎপাদনের দিক থেকেও কাঁঠাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ; প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।
কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে নির্বাচনের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কাঁঠাল চেনেন না। এমন এলাকাও খুব কম, যেখানে কাঁঠাল জন্মায় না। সহজলভ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণেই এটি জাতীয় ফল। আর কাঁঠালের আদিনিবাসও এ অঞ্চল তথা ভারতীয় উপমহাদেশ। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গেও কাঁঠাল গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।’
বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফল কাঁঠাল। উদ্ভিদবিদদের মতে, কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা। বর্তমানে সেখানে বুনো কাঁঠাল জন্মায়। ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুর রাজ্যফলও কাঁঠাল।
আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস। কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা জনপ্রিয় করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। ২০১৬ সালে দিবসটির প্রচলন হলেও এর সূচনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না।
দিবসটির মূল বার্তা জাতীয় ফলকে নতুনভাবে চিনে নেওয়া। তাই সুযোগ থাকলে আজ পাকা কাঁঠালের স্বাদ নেওয়া কিংবা কাঁঠাল দিয়ে নতুন কোনো খাবার তৈরি করে এই বহুমাত্রিক ফলের বৈচিত্র্য নতুনভাবে আবিষ্কার করা যেতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ