ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্বকাপে রাতজাগা ফুটবল, চোখের ক্ষতি এড়াতে যা করবেন
ডুয়া ডেস্ক: বিশ্বকাপ চলাকালে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই রাত জেগে একের পর এক ম্যাচ উপভোগ করছেন। শুধু খেলা দেখাই নয়, ম্যাচ শুরুর আগে দল নিয়ে আলোচনা, লাইভ স্কোর অনুসরণ, হাইলাইটস দেখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতেও দীর্ঘ সময় কাটছে মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের পর্দার সামনে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু ঘুমের ব্যাঘাতই ঘটায় না, চোখের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ বা চোখের ক্লান্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। খেলা দেখার উত্তেজনায় মানুষ সাধারণত স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলেন। ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। এর কারণে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, চোখ ভারী লাগা কিংবা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় একই দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশিতেও ক্লান্তি তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া বা চোখে অস্বস্তি অনুভূত হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মোবাইলে লাইভ স্ট্রিমিং কিংবা বড় টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখার সময় ফুটবলের দ্রুতগতির দৃশ্য অনুসরণ করতে চোখকে সারাক্ষণ ফোকাস ধরে রাখতে হয়। এতে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে এক রাতে টানা দুই বা তিনটি ম্যাচ দেখলে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এর প্রভাব পরদিনও থেকে যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ভারী লাগা, শুষ্কতা কিংবা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমের মান কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও মোবাইলে হাইলাইটস দেখেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এতে স্ক্রিন থেকে নির্গত ব্লু লাইটের সংস্পর্শ আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অতিরিক্ত ব্লু লাইট শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের মান কমে যায় এবং পরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
চোখের সুরক্ষায় কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানোর ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলতে হবে। ম্যাচ দেখার সময় সচেতনভাবে বারবার পলক ফেলতে হবে, যাতে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে। টিভি বা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে এবং সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে নয়, পর্যাপ্ত আলোতে খেলা দেখতে হবে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ শরীরে পানির ঘাটতি চোখের শুষ্কতা বাড়াতে পারে। মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপে ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড ব্যবহার করাও উপকারী। হাফটাইম বা ম্যাচের বিরতির সময় কয়েক মিনিটের জন্য স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বিশ্রাম দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, টানা স্ক্রিন ব্যবহারের পর সাময়িক চোখের ক্লান্তি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি ঝাপসা দেখা, চোখে অতিরিক্ত শুষ্কতা, তীব্র জ্বালাপোড়া, বারবার মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা বা ফোকাস করতে অসুবিধার মতো সমস্যা থেকে যায়, তাহলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি চোখও সুস্থ ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী