ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

পায়খানা চেপে রাখার অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর? জানুন শরীরে কী প্রভাব পড়ে

২০২৬ জুন ২৫ ১৭:৪২:২০

পায়খানা চেপে রাখার অভ্যাস কতটা ক্ষতিকর? জানুন শরীরে কী প্রভাব পড়ে

ডুয়া ডেস্ক: ব্যস্ততা, ভ্রমণ কিংবা আশপাশে শৌচাগারের অভাব বিভিন্ন কারণে অনেক সময় মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করেও তা দমন করে রাখেন অনেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং তাতে বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে যদি এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে হজমতন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

মলত্যাগের প্রয়োজন হলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই সেই সংকেত দেয়। কিন্তু সেই সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় মল চেপে রাখলে তা বৃহদান্ত্রে (কোলন) জমে থাকে। এ সময় মল থেকে আরও বেশি পানি শোষিত হয়, ফলে তা ধীরে ধীরে শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মলত্যাগ তখন আরও কঠিন ও কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।

২০২২ সালের একটি হেলথকেয়ার স্টাডিতে বলা হয়েছে, মল দীর্ঘ সময় ধরে চেপে রাখলে মলদ্বার প্রসারিত হতে পারে এবং মল থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে তা আরও শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মলত্যাগের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি বাড়ে। একই সঙ্গে বারবার এমন করলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে মলত্যাগের স্বাভাবিক তাগিদ অনুভব করার ক্ষমতা হারাতে পারে। এর পরিণতিতে গুরুতর কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশির ক্ষতি কিংবা অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত মল চেপে রাখার অভ্যাস থেকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ এবং কঠিন মল ত্যাগের কারণে অর্শ বা হেমোরয়েডসের মতো সমস্যা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্ত্র-সংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ, কর্মব্যস্ততা বা শৌচাগারের অনুপস্থিতির কারণে মাঝে মধ্যে মলত্যাগ বিলম্বিত হওয়া সাধারণত গুরুতর কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে শরীরের স্বাভাবিক সংকেত উপেক্ষা করলে সেই সংকেতের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে, ফলে কখন মলত্যাগ প্রয়োজন তা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর মলত্যাগের অভ্যাস বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল, শাকসবজি, শস্যদানা ও ডালজাতীয় খাবার মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করলে তা বিলম্ব না করাই উত্তম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্তপাত অথবা মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত