ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
টাইপ-৫ ডায়াবেটিস কী, যাদের ঝুঁকি বেশি জানুন
ডুয়া ডেস্ক: ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসকেই বোঝানো হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘টাইপ-৫ ডায়াবেটিস’ নামে ভিন্ন ধরনের একটি ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখনো এটিকে পৃথক ধরনের ডায়াবেটিস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কারণ, এ বিষয়ে আরও গবেষণা এবং শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস হিসেবে ভুল শনাক্ত হওয়ায় অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির কারণে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে টাইপ–৫ ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। এতে শরীরে কিছু ইনসুলিন উৎপন্ন হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত হয় না। একই সঙ্গে অনেক রোগী ইনসুলিনের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। ফলে প্রচলিত চিকিৎসা সবার ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। বরং ভুলভাবে ইনসুলিন প্রয়োগ করলে কারও কারও রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের উপসর্গ অনেকটাই অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিসের মতো। এর মধ্যে রয়েছে-
একটানা ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা লাগা।
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া।
অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা।
ঝাপসা দেখা।
ক্ষত বা ঘা ধীরে শুকানো।
গুরুতর অপুষ্টি বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ওজন থাকা, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে।
শনাক্ত না হলে যেসব ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, টাইপ-৫ ডায়াবেটিস সঠিকভাবে শনাক্ত না হলে রোগী ভুল চিকিৎসা পেতে পারেন। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ইনসুলিন ব্যবহারে মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। পাশাপাশি চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হতে পারে এবং স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি) দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া পায়ে বা শরীরের অন্য অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে তা সহজে শুকায় না। জটিল সংক্রমণের কারণে অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কম ওজনের তরুণদের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি পাওয়া গেলে শুধু টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরে নেওয়া উচিত নয়। রোগীর পুষ্টিগত ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, টাইপ-৫ ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা এখনো চলমান। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই একজন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয়ই জটিলতা প্রতিরোধ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত