ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময়? নীরবে যেভাবে বদলে যাচ্ছে শরীর
ডুয়া ডেস্ক: স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা কম্পিউটারের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার অজান্তেই শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আনছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় থাকতে সচেতন হলে এসব ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেমন, অনেকের কনিষ্ঠা আঙুলে ঠিক সেই জায়গায় কড়া পড়ে, যেখানে ভর দিয়ে দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ধরা হয়। বিষয়টি থেকেই প্রশ্ন উঠেছে ডিজিটাল ডিভাইস শরীরের অন্য অংশগুলোতেও কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘাড়ের গঠন পরিবর্তন, দৃষ্টিশক্তির অবনতি, মোটর স্কিল বা স্নায়ু-পেশির সমন্বয় কমে যাওয়া এবং পেশির শক্তি হ্রাসের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের ফলে ত্বকে অকালেই বলিরেখা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে স্মৃতিভ্রমসহ আরও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিও যুক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে এখন থেকেই কিছু সতর্কতা জরুরি।
মেরুদণ্ডের বিকৃতি বা ‘টেক নেক’
স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় বেশির ভাগ মানুষই মাথা নিচু করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ অবস্থায় ঘাড়ের ওপর প্রায় ২৭ কেজি (৬০ পাউন্ড) পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্ক, জয়েন্ট ও পেশির ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে ‘টেক নেক’ নামে অভিহিত করা হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের স্বাভাবিক গঠনও বদলে দিতে পারে।
যা করতে পারেন:
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘাড়ের বিশেষ ব্যায়াম করুন।
ফোন চোখের সমান্তরালে ধরে ব্যবহার করুন। স্ক্রিন মুখ থেকে প্রায় এক হাত দূরে রাখার চেষ্টা করুন। কম্পিউটারের মনিটরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন এবং কিছু সময় চোখ ও ঘাড়কে বিশ্রাম দিন।
ত্বকের সমস্যা ও ঘাড়ে বলিরেখা
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের ফেলো জাস্টিন হেক্সটলের মতে, দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে রাখলে একই স্থানে বারবার চাপ পড়ে, যা তাত্ত্বিকভাবে বলিরেখা তৈরির কারণ হতে পারে।
তবে তিনি অনলাইনে প্রচারিত তথাকথিত ‘টেক নেক’ প্রতিরোধক প্রসাধনী কেনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি স্মার্টওয়াচ দীর্ঘ সময় পরে থাকার কারণেও ত্বকে ফাঙ্গাস বা একজিমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যা করতে পারেন:
স্মার্টওয়াচ মাঝে মাঝে খুলে ত্বক পরিষ্কার করুন।
দীর্ঘ সময় ঘড়ি ব্যবহার করলে ত্বকে উপযুক্ত ব্যারিয়ার ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
দৃষ্টিশক্তির অবনতি
বিশ্বজুড়ে মায়োপিয়া বা দূরের বস্তু ঝাপসা দেখার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অপটোমেট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডোনাল্ড মুটির মতে, এর জন্য কেবল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকাই দায়ী নয়; বরং মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কম সময় বাইরে কাটাচ্ছে।
দিনের আলোয় বাইরে থাকলে চোখের রেটিনা থেকে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা চোখের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবন মানুষকে ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটাতে বাধ্য করছে, যা পরোক্ষভাবে দৃষ্টিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যা করতে পারেন:
প্রতিদিন কিছু সময় দিনের আলোতে বাইরে কাটান। তবে অতিরিক্ত রোদ এড়াতে সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
এ অভ্যাস চোখের পাশাপাশি ভালো ঘুম নিশ্চিত করতেও সহায়ক।
হাতের মুঠোর শক্তি কমে যাওয়া
হাতের মুঠোর শক্তি এখন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপের তুলনায় গ্রিপ স্ট্রেন্থ দিয়েই অকালমৃত্যুর ঝুঁকি আরও নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব।
জার্মানির মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব লুসিটজের মেডিকেল সোসিওলজির অধ্যাপক জোহানেস বেলার বলেন, দীর্ঘ সময় বসে কম্পিউটারভিত্তিক কাজ করার কারণে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা কমছে এবং এর প্রভাব হাতের মুঠোর শক্তির ওপরও পড়ছে।
যা করতে পারেন:
একটি টেনিস বল শক্ত করে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড চেপে ধরার অনুশীলন করুন।
কবজির ব্যায়াম করুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা বা জিমে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
হাত-চোখের সমন্বয় কমে যাওয়া
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মোটর স্কিল বা সূক্ষ্ম শারীরিক দক্ষতাও কমিয়ে দিতে পারে। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব রেগেন্সবার্গের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি অ্যান্ড এডুকেশনের অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান সুগেট বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহার মানুষকে স্ক্রিনে ক্লিক বা সোয়াইপ করতে দক্ষ করলেও সামগ্রিক মোটর স্কিলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মোটর স্কিলের সঙ্গে তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সুগেটের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রজন্মের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যা করতে পারেন:
দৈনন্দিন জীবনে হাতে-কলমে কাজ করার অভ্যাস বাড়ান।
রান্না, ছবি আঁকা, হস্তশিল্প বা কাঠের কাজের মতো সৃজনশীল কাজে সময় দিন।
কোনো বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করুন অথবা নিয়মিত হাতে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- মালয়েশিয়ায় এসডিজি ইনোভেশন সামিটে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির সুযোগ
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হয়েছিল, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি