ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ১০ চাকরি, আয় কোটি টাকার বেশি

২০২৬ জুলাই ০৫ ১৯:৫১:৫৫

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ১০ চাকরি, আয় কোটি টাকার বেশি

ডুয়া ডেস্ক: একসময় ক্যারিয়ারের সাফল্য মাপার প্রধান মানদণ্ড ছিল পদোন্নতি, পদমর্যাদা ও মোটা অঙ্কের বেতন। তবে বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাই, বাড়তি কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ায় এখন পেশাজীবীদের কাছে নতুন প্রশ্ন কোন চাকরি মানুষকে সত্যিকার অর্থে সবচেয়ে বেশি সুখী করে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লিং’ (Blink) সম্প্রতি একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। দেশটির সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ১০০টি পেশা বিশ্লেষণ করে তারা এমন ১০টি চাকরির তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে কর্মীদের বার্ষিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি এবং তারা নিজেদের সবচেয়ে বেশি সুখী বলে মনে করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ ডলারের মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সুখী চাকরি মানেই চাপহীন কর্মজীবন নয়। বরং যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়, সেসব কর্মস্থলেই সন্তুষ্টির মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

গবেষণায় স্থান পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী ১০টি পেশা ও তাদের বার্ষিক গড় আয় হলো—

বিমানের পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ২ লাখ ১৯ হাজার ১৪০ ডলার। দায়িত্ব অত্যন্ত বড় এবং কাজের সময় নির্দিষ্ট না হলেও নিজেদের দক্ষতা ও পেশাগত মূল্যায়নের কারণে এই পেশার কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি সুখী।

মার্কেটিং ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২০ ডলার। কাজের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার সুযোগ থাকায় এই পেশার কর্মীরা উচ্চমাত্রার সন্তুষ্টি অনুভব করেন।

ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ১০০ ডলার। আর্থিক খাতের এই পেশায় দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও অনেক বেশি।

আইনজীবী: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ ডলার। মানুষের জটিল আইনি সমস্যার সমাধান করতে পারার মধ্যেই তারা মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পান।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫০ ডলার। কর্মী নিয়োগ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে এই পেশায় সন্তুষ্টির মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

ফার্মাসিস্ট: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০ ডলার। মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ এই পেশাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯০ ডলার। জ্বালানি খাতের এই চ্যালেঞ্জিং পেশায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যায়ন পান।

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০ ডলার। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ এই পেশার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

সফটওয়্যার ডেভেলপার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬০ ডলার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ এবং স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগের কারণে এই পেশার কর্মীরা নিজেদের সন্তুষ্ট মনে করেন।

পোস্টমাস্টার ও মেইল সুপারিনটেনডেন্ট: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৭ হাজার ৩৬০ ডলার। চাকরির স্থায়িত্ব এবং মানসিক শান্তির কারণে এই পেশাটিও সুখী চাকরির তালিকায় জায়গা পেয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পেশাগুলো ভিন্ন খাতের হলেও তিনটি বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে অভিন্ন। সেগুলো হলো প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং কাজের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য।

ফলে গবেষণাটি নতুন একটি বার্তা দিয়েছে। শুধু উচ্চ বেতনই কর্মক্ষেত্রে সুখ নিশ্চিত করে না। বরং কাজের স্বাধীনতা, যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং সম্মানজনক পারিশ্রমিক এই তিনের সমন্বয়ই একজন মানুষকে কর্মজীবনে প্রকৃত সন্তুষ্টি এনে দেয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)


আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণের বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের ফলে শনিবার থেকে নতুন... বিস্তারিত