ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বিশ্বকাপের রেফারিরা কত টাকা পান? জানুন বিস্তারিত
ডুয়া ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপে রেফারির দায়িত্ব পালন বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর একটি বলে বিবেচিত হয়। একটি ম্যাচের প্রতিটি সিদ্ধান্ত কোটি কোটি দর্শকের নজরে থাকে। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত রেফারিদের বিশ্বকাপের আগে এক থেকে দুই বছরব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ, ফিটনেস পরীক্ষা, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রশিক্ষণ এবং ম্যাচ সিমুলেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এই কঠিন দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারিশ্রমিকও পান তারা।
সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকো গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। পরে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নেয়।
ম্যাচ শেষে ওই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরের মাঠে শুরু হওয়া সেই আলোচনা বাংলাদেশের যশোরের দড়াটানার মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, রেফারির সিদ্ধান্তই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জিতিয়েছে।
ম্যাচটির প্রধান রেফারি ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তিনি বর্তমানে উয়েফা ও ফিফার অন্যতম শীর্ষ রেফারি। ২০২৪ সালের উয়েফা ইউরোর ফাইনাল পরিচালনার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান।
বিশ্বকাপে রেফারি হওয়ার পথ দীর্ঘ ও কঠিন। সাধারণত স্থানীয় বা জেলা পর্যায়ে রেফারিং দিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়। এরপর জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের লাইসেন্স অর্জন, দেশের শীর্ষ লিগে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন, জাতীয় ফেডারেশনের সুপারিশে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনের পরই বিশ্বকাপের জন্য বিবেচিত হন তারা। সবশেষে ফিফা রেফারি কমিটি বিশ্বকাপের রেফারিদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে।
নির্বাচিত রেফারিদের বিশ্বকাপের আগে এক থেকে দুই বছর বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফিটনেস পরীক্ষা, ভিএআর প্রশিক্ষণ, ম্যাচ সিমুলেশন, দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এসবই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও রেফারিদের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। একজন রেফারি একটি ম্যাচে সাধারণত ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার দৌড়ান। বড় ম্যাচে এ দূরত্ব ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই দৌড়ে স্প্রিন্ট, জগিং, ব্যাকওয়ার্ড রানিং এবং সাইড শাফল সব ধরনের গতির সমন্বয় থাকে।
ফিফার নির্ধারিত ফিটনেস পরীক্ষায় ৪০ মিটার স্প্রিন্ট, পুনরাবৃত্ত স্প্রিন্ট, উচ্চগতির ইন্টারভ্যাল রান এবং ইয়ো-ইয়ো ধরনের সহনশীলতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এসব পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারাতে পারেন একজন রেফারি।
অনেকের ধারণা, রেফারির কাজ শুধু ফাউল ধরা। বাস্তবে তাঁর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। ম্যাচ শুরু, বিরতি ও শেষের বাঁশি বাজানো, ফ্রি-কিক ও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া, সহকারী রেফারির সঙ্গে সমন্বয় করা, হলুদ ও লাল কার্ড প্রদর্শন, ইনজুরি টাইম নির্ধারণ এবং ভিএআরের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন প্রধান রেফারি।
ফুটবলের আইন অনুযায়ী মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। প্রয়োজনে তিনি ম্যাচ স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন, খেলোয়াড় কিংবা কোচকে বহিষ্কার করতে পারেন এবং দর্শক বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। যদিও পরে ভিডিও বিশ্লেষণে কোনো সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হতে পারে।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টভেদে কিছু পার্থক্য থাকলেও একজন প্রধান রেফারি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ৫০ থেকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার টুর্নামেন্ট ফি পান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ থেকে ৮৫ লাখ টাকার সমান। এর বাইরে প্রতিটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একটি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করে একজন প্রধান রেফারির আয় এক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
সহকারী রেফারিরা টুর্নামেন্ট ফি হিসেবে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩০ থেকে ৪২ লাখ টাকা পান। এছাড়া প্রতি ম্যাচে ২ থেকে ৩ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ভ্রমণ, আবাসন ও অন্যান্য ভাতাও বহন করে ফিফা।
বর্তমানে বিশ্বকাপে মাঠের বাইরে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিএআর দল কাজ করে। এই দলে ভিডিও সহকারী রেফারি, সহকারী ভিএআর, অফসাইড ভিএআর এবং রিপ্লে অপারেটর থাকেন। তারা বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রধান রেফারিকে সরবরাহ করেন।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম খ্যাতিমান রেফারি সাবেক ইতালিয়ান কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা। টাকমাথা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত কোলিনা ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন, যা এখনো ফিফার ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেফারিং হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডিফেন্ডার হিসেবে ফুটবল খেলা শুরু করলেও এক বন্ধুর পরামর্শে ১৭ বছর বয়সে রেফারি কোর্সে ভর্তি হন পিয়েরলুইজি কোলিনা। পরে ইতালির নিম্ন লিগ থেকে উঠে এসে ১৯৯৫ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ফিফার রেফারিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)
- বস্ত্র অধিদপ্তরে ৪২ পদে পুনর্নিয়োগ
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- ঢাকার ১১০ কিলোমিটার নৌপথে চলবে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস