ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আবহে তেলের বাজারে বড় দরপতন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ইতিবাচক দাবির পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একঝটকায় প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের আভাসেই তেলের বাজারে এই আকস্মিক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৭.৭৯ ডলারে, যা আগের দিনের (রবিবার) তুলনায় ৫.৮৫ ডলার বা ৫.৭ শতাংশ কম। একই দিনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ব্যারেল প্রতি ৫.৭৫ ডলার বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৯০.৮৫ ডলারে নেমে এসেছে।
মূলত গত শনিবার ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বক্তব্যই এই দরপতনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্থাপনের লক্ষ্যে চলমান সমঝোতা-সংলাপ অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।
বাজারের এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ বিশ্লেষক সংস্থা ‘এমএসটি মার্কি’র বিশেষজ্ঞ সাওল ক্যাভোনিক মন্তব্য করেন, "হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নানামুখী ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের এই ইতিবাচক অবস্থান আশার আলো দেখাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে তেলের বাজারে স্বস্তি এনে দিয়েছে।"
তবে বাজারের এই পতন নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেছেন আইএনজি-র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারস। রয়টার্সকে তিনি বলেন, "হিসেব অনুযায়ী তেলের দাম আরও কমার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন আগেও এমন অনেক আশা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করতে পারেনি। তাই বাজারের বিক্রেতারা এবার বেশ সাবধানে পা ফেলছেন। চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেই কেবল বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।"
একই সুর শোনা গেছে ব্রিটিশ বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘ফিলিপ নোভা’র বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেভের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের শুরু থেকেই তেলের বাজার মারাত্মক অস্থির ছিল এবং গত সপ্তাহে তা চরম আকার ধারণ করে। সেখান থেকে দাম ৬ শতাংশ কমে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক; তবে ভূরাজনৈতিক সংঘাতের পুরোপুরি অবসান না হওয়া পর্যন্ত বাজারকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না।"
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- মাসে ২৫০০ টাকা বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ