ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এক বছরের মহাকাশ মিশনে তিন নভোচারী পাঠাচ্ছে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন তাদের মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযান হিসেবে এক বছর মেয়াদে একজন নভোচারীকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই মিশন মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে মানবদেহে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে চীনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে এই অভিযান সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ৩টা ৮ মিনিট) লং মার্চ-২ এফ ওয়াই২৩ রকেটের মাধ্যমে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে।
এই মিশনে তিনজন নভোচারী থাকবেন। তাঁদের একজন পে–লোড বিশেষজ্ঞ লি জিয়াইং, যিনি আগে হংকং পুলিশের পরিদর্শক ছিলেন এবং হংকং থেকে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম ব্যক্তি। অন্য দুইজন হলেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝ্যাং ইউয়ানঝি, যারা পিপলস লিবারেশন আর্মির নভোচারী বিভাগের সদস্য।
তিনজনের মধ্যে একজন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পুরো এক বছর অবস্থান করবেন। চীনের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, মিশনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে কে সেখানে এক বছর অবস্থান করবেন।
এই অভিযানকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মহাকাশ মিশন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও এটি ১৯৯৫ সালে এক রুশ মহাকাশচারীর সাড়ে ১৪ মাসের রেকর্ডের চেয়ে কম সময়ের।
চীন ইতোমধ্যে একাধিকবার তাদের মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠিয়েছে। তবে এবারের অভিযান এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন ভবিষ্যতে চাঁদের সম্পদ ব্যবহার ও ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক ভ্রমণ সম্পন্ন করেন, যা আধা শতাব্দীর মধ্যে প্রথম মানবচালিত চন্দ্র অভিযান হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে স্পেসএক্স তাদের স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র ও মহাকাশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের হাতে এখন খুবই সীমিত সময় রয়েছে। এজন্য দেশটিকে নতুন প্রযুক্তি, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে সেগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তিয়ানগং থেকে চাঁদের পৃষ্ঠে নিরাপদ অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়।
২০২১ সাল থেকে চীন নিয়মিতভাবে তিনজন করে নভোচারীকে ছয় মাসের জন্য তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠাচ্ছে। এছাড়া চীনের মহাকাশ সংস্থা বর্তমানে পাকিস্তানের দুইজন নভোচারীকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যাদের মধ্যে একজন চলতি বছর স্বল্পমেয়াদি মিশনে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- আর্জেন্টিনা বনাম আইসল্যান্ড ম্যাচ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- সাফ নারী ফাইনাল: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ৪ গোলে শেষ ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশে যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণদের ফের ভেরিফিকেশন হতে পারে
- নারীদের যৌন আগ্রহ বাড়ে, পুরুষদের সমস্যা বৃদ্ধি পায়: গবেষণা
- বুধবার থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদন শুরু
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন কোষাধ্যক্ষ ড. বোরহান উদ্দিন
- ইউরোপে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ কে-যেভাবে দেখবেন সরাসরি
- নিরাপত্তার কারণে বন্ধ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ
- মোবাইলে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ, বিস্তারিত জানুন