ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এক বছরের মহাকাশ মিশনে তিন নভোচারী পাঠাচ্ছে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন তাদের মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযান হিসেবে এক বছর মেয়াদে একজন নভোচারীকে মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই মিশন মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে মানবদেহে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে চীনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে এই অভিযান সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ৩টা ৮ মিনিট) লং মার্চ-২ এফ ওয়াই২৩ রকেটের মাধ্যমে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে।
এই মিশনে তিনজন নভোচারী থাকবেন। তাঁদের একজন পে–লোড বিশেষজ্ঞ লি জিয়াইং, যিনি আগে হংকং পুলিশের পরিদর্শক ছিলেন এবং হংকং থেকে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম ব্যক্তি। অন্য দুইজন হলেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝ্যাং ইউয়ানঝি, যারা পিপলস লিবারেশন আর্মির নভোচারী বিভাগের সদস্য।
তিনজনের মধ্যে একজন তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পুরো এক বছর অবস্থান করবেন। চীনের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, মিশনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে কে সেখানে এক বছর অবস্থান করবেন।
এই অভিযানকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মহাকাশ মিশন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও এটি ১৯৯৫ সালে এক রুশ মহাকাশচারীর সাড়ে ১৪ মাসের রেকর্ডের চেয়ে কম সময়ের।
চীন ইতোমধ্যে একাধিকবার তাদের মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠিয়েছে। তবে এবারের অভিযান এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন ভবিষ্যতে চাঁদের সম্পদ ব্যবহার ও ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের অংশ হিসেবে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক ভ্রমণ সম্পন্ন করেন, যা আধা শতাব্দীর মধ্যে প্রথম মানবচালিত চন্দ্র অভিযান হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে স্পেসএক্স তাদের স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র ও মহাকাশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের হাতে এখন খুবই সীমিত সময় রয়েছে। এজন্য দেশটিকে নতুন প্রযুক্তি, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে সেগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তিয়ানগং থেকে চাঁদের পৃষ্ঠে নিরাপদ অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়।
২০২১ সাল থেকে চীন নিয়মিতভাবে তিনজন করে নভোচারীকে ছয় মাসের জন্য তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠাচ্ছে। এছাড়া চীনের মহাকাশ সংস্থা বর্তমানে পাকিস্তানের দুইজন নভোচারীকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যাদের মধ্যে একজন চলতি বছর স্বল্পমেয়াদি মিশনে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ফুটবলের কোচ নিয়োগ নিয়ে যা বললেন আমিনুল
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে
- আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড
- শিরিন সুলতানা এমপিকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের সংবর্ধনা
- শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মাউশি
- ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী পেলেন ‘অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ’ বৃত্তি
- শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান, আবেদন শুরু