ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
দেশে অপুষ্টিতে দেড় কোটি মানুষ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ
ডুয়া ডেস্ক: বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির শিকার প্রায় দেড় কোটি মানুষ। একই সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ৪ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ। অপুষ্টির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। বর্তমানে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রজননক্ষম প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। এছাড়া অপুষ্টির কারণে দেশের প্রায় ৪২ লাখ শিশুর বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম বা খর্বকায়।
এ তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। গত ২১ জুলাই খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্ব জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ক্ষুধার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের ১৭ কোটি ৪৪ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশের ২৬ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করেছেন। এর মধ্যে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বছরের কোনো না কোনো সময়ে এমন অবস্থায় ছিলেন, যখন তাদের কাছে খাওয়ার মতো খাবার ছিল না।
ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। শ্রীলঙ্কা (৪ দশমিক ৯ শতাংশ), নেপাল (৫ দশমিক ২ শতাংশ) ও ইরান (৬ দশমিক ৭ শতাংশ) বাংলাদেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারত (৯ দশমিক ৮ শতাংশ), পাকিস্তান (১৬ দশমিক ১ শতাংশ) এবং আফগানিস্তান (২৭ দশমিক ৮ শতাংশ) বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে খর্বকায় হওয়ার হার ২০১২ সালের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে কমে ২৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এখনো প্রায় ৪২ লাখ শিশু এ সমস্যায় আক্রান্ত।
এছাড়া দেশের ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বা প্রায় ১৭ লাখ শিশু উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের (কৃশতা) সমস্যায় ভুগছে। দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় এটি কম হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। পুষ্টিবিদদের মতে, শৈশবে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্থায়ীভাবে ব্যাহত করে এবং ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষমতা ও মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার হার ছিল ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ নারী এ সমস্যায় আক্রান্ত।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
অপুষ্টির প্রধান কারণ পুষ্টিকর খাবারের উচ্চ মূল্য
প্রতিবেদনে অপুষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পুষ্টিকর খাদ্যের উচ্চ মূল্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয় ছিল ৩ দশমিক ০৯ পিপিপি ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ পিপিপি ডলারে। এর ফলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাবার কেনার আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় ব্যয় ৪ দশমিক ১৮ পিপিপি ডলার হলেও বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ৫৯ পিপিপি ডলার। অর্থাৎ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যয় বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই প্রাণিজ আমিষ, ফলমূল ও শাকসবজি কিনতে ব্যয় হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক মানুষ এসব খাদ্য কিনতে পারছেন না। ফলে তারা পুষ্টিকর খাদ্যের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত সস্তা চাল বা ভাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু (৬ থেকে ২৩ মাস) এবং ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ন্যূনতম বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পান। খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্যনিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে সরকারি ভর্তুকি ও গবেষণা এখনো মূলত চাল ও গমের মতো দানাজাতীয় ফসলকেন্দ্রিক। ডাল, ফল ও সবজির মতো পুষ্টিকর খাদ্যের উৎপাদনে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম, যা দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞের মত
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের পুষ্টিবিষয়ক পরিস্থিতি পাঁচ বছর ধরে একই রকম আছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চল, উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল সর্বোপরি আমাদের পুষ্টিকর খাবারের তালিকা ভালো না।’
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সারা বছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সূত্র: আগামীর সময়
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দামি( ২১ জুলাই )
- জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’
- বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরল স্পেন, রাজকীয় সংবর্ধনা
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- মেসির সঙ্গে অবিচার করল আর্জেন্টিনা
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্যয় ৪৭ কোটি টাকা
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- মেসির অশ্রু দেখে যা বললেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি