ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে কারণ জানিয়ে যা লিখলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

২০২৬ জুলাই ২৫ ১৭:০২:৪৬

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে কারণ জানিয়ে যা লিখলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থী, সরকার এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, ‘নিট-ইউজি’ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে চলমান বিতর্ক যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং ‘দেশবিরোধী শক্তি’ যেন এ অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে—এই বিবেচনা থেকেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হিন্দিতে লেখা চিঠিটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশ করেন। একই পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের ঘোষণাও দেন।

চিঠিতে সাম্প্রতিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব বিতর্কের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি আমার দায়িত্ব স্বীকার করেছি এবং এই পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিইনি।’

সদ্য সাবেক এই মন্ত্রী জানান, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। পাশাপাশি বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লেখেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে এবং দেশবিরোধী কোনো শক্তি যেন এর সুবিধা নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং আমাদের সন্তানেরা যেন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে, সেসব নিশ্চিত করতেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, ২১ জুন অনুষ্ঠিত পুনঃপরীক্ষা কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকারি সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ

পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার দাবি করার পাশাপাশি বিদায়ী এই শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, পুরো বিতর্ক চলাকালে ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। যদিও গত কয়েক দিন ধরে ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রের শেষাংশে দেশের তরুণদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন কোনোভাবেই ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ফাঁদে পা না দেন এবং নিজেদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী থাকেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি... বিস্তারিত