ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রবল বন্যায় যেভাবে টিকে গেল নেপালের সবুজ ভবন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিধস ও বন্যার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেগুলো দেখে চমকে উঠেছেন অনেকেই। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার তীব্র স্রোতে সামনে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা চোখের পলকে ভেসে গেলেও সবুজ রঙের একটি বহুতল ভবন অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘটনাটিকে অনেকে অলৌকিক বলে মনে করছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে প্রকৌশলবিদ্যার সাফল্য কিংবা প্রকৃতির বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভবনটির টিকে থাকার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ।
নেপালের নুওয়াকোট জেলার ত্রিশূলী শহরে আঘাত হানা আকস্মিক এই বন্যায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে নদীর পানির স্তর ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। জানা গেছে, হিমালয়ের একটি গ্লেসিয়ার বা হিমবাহের ভাঙা অংশ নদীতে আছড়ে পড়ার কারণে বরফশিলা ও কাদামাটির একটি প্রলয়ংকরী স্রোত তৈরি হয়েছিল। এতে উপত্যকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও সেতু মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়লেও নদীর তীরে থাকা সবুজ রঙের বহুতল ভবনটি টিকে যায়।
বাড়িটির টিকে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অ্যাড্রিয়ান ম্যাককালাম জানিয়েছেন, কংক্রিট ও রিইনফোর্সড স্টিল বা রড দিয়ে নির্মিত ভবনটির ভিত্তি শক্ত পাথরের ওপর স্থাপন করা হয়েছিল। এ কারণে তীব্র স্রোতের আঘাতও ভবনটি সহ্য করতে পেরেছে। এর পাশাপাশি পানিপ্রবাহের গতিপ্রকৃতিও ভবনটিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভবনটির ঠিক উজানে ছিল ছোট একটি উঁচু ভূখণ্ড বা হেডল্যান্ড। ওই প্রাকৃতিক ঢাল নদীর প্রধান স্রোতকে দুই পাশে ভাগ করে দেয়। ফলে বন্যার পানির মূল ধাক্কা সরাসরি ভবনটির ওপর পড়েনি।
প্রকৌশলগত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবনটির উচ্চ ভিত্তি বা ফ্লোটিং মেকানিজম। অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুইন্সল্যান্ডার বাড়ির মতো ভবনটির নিচ দিয়ে পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারায় মূল কাঠামোর ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়েছে। ফলে আশপাশের ভবনগুলো ধসে পড়লেও এই বৈজ্ঞানিক কাঠামোর কারণে ভবনটি টিকে থাকে।
বাড়ির মালিক প্রকাশ জানান, নদীর কাছাকাছি হওয়ায় ভবনটি নির্মাণের সময় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। নদীর তীরের ঝুঁকি বিবেচনায় ভবনটির ভিত্তি মজবুত করার জন্য মূল কাঠামোর নিচে দুই–তিন স্তরের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত মানের সিমেন্ট ও রডও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সাধারণ পাথর বা ইটের দেয়ালের মতো ভবনটি দুর্বল ছিল না।
রিইনফোর্সড কংক্রিট ফ্রেম ও স্টিলের সমন্বয়ে কাঠামোটি তৈরি হওয়ায় ভবনের কলাম, বিম ও ভিত্তি একটি অবিচ্ছিন্ন কাঠামোগত কঙ্কালের মতো কাজ করেছে। একই সঙ্গে নদীর স্রোত ও ভাসমান পাথরের তীব্র আঘাত এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হতে না পারায় ভবনের পুরো কাঠামো সমানভাবে চাপ গ্রহণ করে তা মাটিতে ছড়িয়ে দিয়েছে।
কাঠামোগত শক্তির পাশাপাশি নদীর গতিপ্রকৃতিও ভবনটিকে রক্ষা করতে সহায়তা করেছে। ধ্বংসাত্মক স্রোতের প্রধান পথ থেকে বাড়িটি কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত ছিল। ফলে সবচেয়ে ভারী পাথর ও আবর্জনার সরাসরি আঘাত থেকেও এটি রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়া ভবনটির আকৃতি এমনভাবে তৈরি ছিল, যা পানির প্রবাহকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়। ফলে পানির ধাক্কা সরাসরি ভবনের সামনে না লেগে দুই পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যায়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি
- চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা স্বপন