ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় বিষণ্ণ সায়েদাবাদের ঈদযাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ, যার স্পষ্ট রূপ দেখা গেছে সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই এই দুই টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বরাবরের মতোই উৎসবের আনন্দকে ফিকে করে দিয়েছে তীব্র পরিবহন সংকট এবং যাত্রীপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পকেট কাটার মহোৎসব। অগ্রিম টিকিট না পেয়ে চরম বিপাকে পড়া শত শত সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা ইঞ্জিনের ওপর বসে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
সকাল ৯টার দিকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশ্যে একের পর এক দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ছাড়ছে। তবে এবারের ঈদযাত্রায় যারা আগেভাগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তাদের যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও তাৎক্ষণিক টিকিট কিনতে আসা সাধারণ যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। কাউন্টারগুলো টিকিট সংকটের অজুহাতে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যেমন সায়েদাবাদ থেকে সপরিবারে বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে হানিফ পরিবহনের ৪টি টিকিট কিনেছেন জসিম নামের এক যাত্রী। তিনি আক্ষেপ করে জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে বরিশাল যেতে ৫০০ টাকা লাগে, সেখানে আজ প্রতি টিকিটের জন্য ৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এটা শুধু এবার নয়, প্রতি ঈদেই আমাদের এই বাড়তি ভাড়ার জুলুম সহ্য করতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চড়া দাম নেওয়ার পরও পেছনের ফাঁকা আসনগুলো পূরণ করার অজুহাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গাড়ি টার্মিনালেই দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে।
ভাড়ার এই লাগামহীন চিত্র কেবল বড় পরিবহনেই নয়, বরিশালগামী বিএমএফ-এর মতো লোকাল বাসগুলোতেও দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ী মোড়ে দেখা যায়, এই বাসটি আসন পূর্ণ হওয়ার পরও অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড়িয়ে নিয়ে রওনা হচ্ছে। বাসের যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে ৪০০ টাকা ভাড়া হলেও আজ তাদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি সিট না পেয়ে যারা দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, তাদের পকেট থেকে খসানো হচ্ছে ৬০০ টাকা। নিরুপায় হয়েই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নিয়েছেন।
ভাড়ার এই নৈরাজ্য কেবল দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য রুটগুলোতেও। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের নন-এসি বাসগুলোতে নিয়মিত ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও ঈদের সুযোগে এখন আদায় করা হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। একইভাবে ঢাকা থেকে খুলনাগামী বাসগুলোতেও ৭০০ টাকার সাধারণ টিকিটের মূল্য হাঁকানো হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান, আবেদন শুরু
- সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে
- আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড
- ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী পেলেন ‘অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ’ বৃত্তি
- অল্প বয়স থেকেই শারীরিক নির্যাতন, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন কেনিশা
- শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মাউশি
- শিক্ষকদের ঈদ ভাতা নিয়ে যা জানাল মাউশি
- উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে ভুয়া বার্তা