ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
যেসব শর্তে আটকে গেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বহুল আলোচিত কূটনৈতিক বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সমাধানের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত মতবিরোধই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলেও মূল দুই ইস্যুতে অচলাবস্থা কাটেনি। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ এবং ইরানের ‘পরমাণু অধিকার’ প্রশ্নটি ছিল বিরোধের কেন্দ্রে।
ভ্যান্সের সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন তেহরানের কাছ থেকে একটি স্থায়ী ও সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইছে—ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন, যেখানে আগে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, আর এখন পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকেই পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত সামনে এসেছে।
ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা ইতোমধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলার সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করেছে। তবে এখন তাদের মূল লক্ষ্য তেহরানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি আদায় করা। তিনি এ প্রস্তাবকে ‘চূড়ান্ত’ উল্লেখ করে বলেন, এটি অনেকটা ‘গ্রহণ করো অথবা ছেড়ে দাও’ ধরনের অবস্থান তৈরি করেছে। তবে আলোচনার প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ইরানি প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষার কথাও জানান তিনি।
এদিকে আলোচনার সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ামিতে একটি ইউএফসি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। যদিও ভ্যান্স দাবি করেছেন, তিনি সার্বক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, তবুও এমন সময়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Press TV জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণেই কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান কার্যকর কোনো কাঠামো তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনায় বেশ কিছু মৌলিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ‘পরমাণু অধিকার’ প্রশ্নে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। এছাড়া আরও কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ইরানি সূত্রগুলো জানায়, তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ ও পরমাণু কর্মসূচির অধিকার রক্ষায় অটল ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কিছু শর্ত তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই আলোচনায় অগ্রগতি থেমে যায়।
সবশেষে বলা যায়, বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠক বড় কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আপাতত কমার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের অবস্থান পরিবর্তন না হলে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- ফ্রান্সের উদ্দেশ্য দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ক্যাশ ডিভিডেন্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিষেধাজ্ঞা
- সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক
- ২৬৭০ কোটি টাকার ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
- গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে অর্থ ফেরতের নির্দেশ
- বর্ষসেরা সংগঠনের স্বীকৃতি পেল ঢাবির টিএফপি ফিল্ম ক্লাব