ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

স্থল অভিযানে জেনারেলদের অস্বীকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকট

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৯:২৪:২৬

স্থল অভিযানে জেনারেলদের অস্বীকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে, যা একটি গুরুতর সাংবিধানিক সংকটের রূপ নিয়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ এক ডজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে একসঙ্গে এত বড় পদচ্যুতির ঘটনা বিরল।

জেনারেলদের এই অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—তারা কি অবৈধ কোনো নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, নাকি এটি বেসামরিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সামরিক অবাধ্যতা? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কমান্ডার-ইন-চিফ এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাদের মতে, পেন্টাগনের ভেতরে এ ধরনের বাধা কমান্ড কাঠামোর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে।

অন্যদিকে সমালোচকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞ সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শীর্ষ পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী পড়বে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত