ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলায় উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ছিল এমন সামরিক স্থাপনা ও ড্রোন, যা মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কোন নির্দিষ্ট ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অন্যদিকে এ ঘটনায় তেহরান থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে সামরিক সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেয়। টানা তিন মাসের সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নতুন হামলার খবর প্রকাশের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল তদারকি করবে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে।” তার এই বক্তব্যের পরপরই নতুন হামলার তথ্য সামনে আসে।
সবশেষ গত সোমবার (২৫ মে) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছিল। তখন তেহরান অভিযোগ করেছিল, ওই হামলা দুই দেশের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল এমন নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, যেগুলো মাইন পেতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছিল এবং মার্কিন সেনাদের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- মাদ্রাসা শিক্ষকদের মার্চ-এপ্রিল অনুদানের চেক ছাড়