ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ হারে বাড়ছে তিন যৌনবাহিত রোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে গনোরিয়া, সিফিলিস ও ক্ল্যামাইডিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনবাহিত রোগ বা এসটিআই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ইকোনমিস্টের।
গত এক দশকে ইউরোপে এসটিআই সংক্রমণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এসব রোগ থেকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, বন্ধ্যাত্ব, এমনকি স্নায়ু ও হৃদ্রোগের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এই সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মানুষের পরিবর্তিত জীবনযাপন এবং এইচআইভি নিয়ে আগের মতো ভয় বা আতঙ্ক না থাকাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসায় এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসা এবং প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস ব্যবহারের কারণে মানুষ অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের বিষয়ে বেশি নির্ভার হয়ে উঠেছে। এতে অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও বেড়েছে। পাশাপাশি ডেটিং অ্যাপের ব্যাপক ব্যবহার এবং মানুষের পারস্পরিক মেলামেশার ধরন পরিবর্তনের কারণেও এসটিআই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউরোপের অনেক দেশে যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক দেশে এসটিআই পরীক্ষা করাতে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি করোনা মহামারির পর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা এবং পুরোনো ও অকার্যকর প্রতিরোধ কৌশল সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সমকামী বা উভকামী পুরুষদের মধ্যে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে বিষমকামী পুরুষ ও নারীদের মধ্যেও সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে সিফিলিস আক্রান্তের হার বৃদ্ধির কারণে গর্ভজাত শিশুর মধ্যে জন্মগত সিফিলিসের সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সচেতনতার অভাবে এসব নবজাতক গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার সুযোগ সহজলভ্য করা, বিনামূল্যে বা কম খরচে এসটিআই পরীক্ষার ব্যবস্থা, গর্ভকালীন স্ক্রিনিংয়ের নিয়ম কঠোর করা এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা।
গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, সময়মতো সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইউরোপে যৌনবাহিত রোগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)