×

ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৭:৪৪:০৪

চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও খুন-খারাবির মতো ঘটনা দেখার জন্য মানুষ জীবন দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের। এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এরকম চাঁদাবাজি, দখলদারি এগুলো দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল?’

দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দখলদারি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সরকারি চাকরিতে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ আয়োজিত ‘আনন্দ সভায়’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ বি জুবায়ের বলেন, ‘আনন্দের কারণ হচ্ছে দেশে এখন চাঁদাবাজি হচ্ছে, দখলদারি হচ্ছে, খুন-খারাবি হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে। এই কারণে আনন্দ সভা। ব্যাপারটা হাস্যকর হলেও বাস্তবতা এরকমই।’

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে কী হচ্ছে সবাই জানেন। গত কয়েকদিনের আপডেট দেখেন। মোহাম্মদপুর উদ্যানে ২০০-২৫০ জন মিলে জমি দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রাড্ডা ক্লিনিকে গিয়ে হামলা হয়েছে, শহীদ মিনারে গিয়ে ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে আপনাকে কথা বলতে দেওয়া হবে না, গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের আচরণ নিয়েও কথা বলেন ডাকসুর এই নেতা। তাঁর ভাষায়, ‘বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করেন কিন্তু ভোগান্তির শিকার হন না, সেখানকার অব্যবস্থাপনা এবং কর্মচারীদের ব্যবহারের ভুক্তভোগী নন—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু এগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে।’

অন্যায় দেখেও কথা বলার সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জুবায়ের বলেন, ‘আপনি অন্যায় দেখেও কিছু বলতে পারবেন না। বরঞ্চ সরকারের প্রশংসা করতে হবে। এখন তৈলমর্দন করতে হবে। একটা দেশ তো এভাবে চলতে পারে না।’

দেশের পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরবর্তী সময় এখনো পর্যন্ত দেশ স্ট্যাবল হয়নি ঠিকমতো। জুলাইয়ের পরে দেখা যাচ্ছে এখনো নানা রকম চক্রান্ত আছে, দেশ স্ট্যাবল হয়নি, নানা ধরনের চাপ আছে। এই জায়গা থেকে সরকারিদল, বিরোধীদল মিলে ইঁদুর-বিড়াল খেলার সময় এখন নয়। এখন সময় হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে স্ট্যাবল করার।’

সরকারের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জুবায়ের বলেন, ‘আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না, যে কারণে বাধ্য হয়ে জনগণকে এখনই আপনাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হয়। এটা কারও জন্যই ভালো হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, আপনি সরকারে আছেন, জনগণ ভোট দিয়েছে—আপনারা সরকার পরিচালনা করেন ঠিকমতো, দেশটাকে স্ট্যাবল করেন। কিন্তু আপনাদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, জনগণ চাইলেও আপনারা চাচ্ছেন না আপনারা ক্ষমতায় থাকেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগের সমালোচনা করে জুবায়ের বলেন, ‘গতকাল দেখলাম সরকারের কোনো লোক যেন বলতেছে, ফেসবুক, ইউটিউবে লাগাম টানা হবে। হোয়াট ইজ দিস ভাই? সাবেক তথ্যমন্ত্রীর অবস্থা কী হয়েছিল, সেটা দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

সবশেষে সরকারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা পাগলামি করবেন না। পাগলামি করলে সেই পাগলামির ফলাফলটা কারও জন্যই ভালো হবে না। দেশ এখনো স্ট্যাবল হয়নি, স্ট্যাবল করা দরকার। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাইকে নিয়ে স্ট্যাবল করা দরকার। একা একা কিছুই পারবেন না—এটা আপনারা যত দ্রুত বুঝবেন তত ভালো।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত