×

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১১:২৩:০৬

ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। একই সঙ্গে সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেন ভুচিচ। তিনি বলেন, তাঁর নয় বছরের শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চান তিনি। সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই তাঁর।

রাশিয়াপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকার শুরু থেকেই নানা ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ওঠে, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাই সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রথম বড়ভাবে উসকে দেয়।

এরপর আন্দোলনে যুক্ত হন বিভিন্ন পেশার মানুষ। ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকেরাও রাজপথে নামেন। দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে এই সমর্থনের কারণে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সেরা এই টেনিস কিংবদন্তিকে দেশ ছাড়তে হয়।

আন্দোলনকারীদের ধারণা, রেলস্টেশনের ওই দুর্ঘটনা ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির এক যুগেরও বেশি সময়ের শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারকাজের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছিলেন। প্রকল্পটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল।

ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীরা থামেননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর আন্দোলন আরও অশান্ত হয়ে পড়ে।

ভুচিচের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। ফলে এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার মানুষ দুই দফা ভোট দেবেন। ভুচিচ জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর এক মাসেরও বেশি সময় পর হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আন্দোলনের চাপেই আগাম সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যেও ভোট আয়োজনের বিষয়টি ছিল।

এর আগে ভুচিচ জানিয়েছিলেন, ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।

ভুচিচ সংবিধানে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং দলের অনুগত কয়েকজন রয়েছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অপরাধে তাঁরা সন্দেহভাজন ছিলেন। ভুচিচ ওই ঘটনাগুলোকে বলেছেন, ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি।’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি পক্ষের সঙ্গে। এর একটি ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ভুচিচ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রকাশ্যে তিনি বলেছেন, সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া তিনি চান। একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং চীনের বিনিয়োগের জন্যও দেশের দরজা খুলে দিয়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত