ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল শেষ মার্কিন সেনারা, দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দশকের বেশি সময়ের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটেছে। দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারাও মঙ্গলবার ইরাক ছেড়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরাকজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে এবং সরকার চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্বেগ—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই রয়েছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এসব গোষ্ঠী আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে পারে তেহরান।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।
ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায় ২০০৩ সালে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইয়াসিরি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্যাপন করবে দেশটির মানুষ।
তবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফালুজা
অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত নয়। ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা।’
তেহরানের সুযোগ
ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো তেহরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে ভূমিকা রাখছে এই গোষ্ঠীগুলো। চলতি মাসেই ইরাক থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় যে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইরাকে ছিলেন।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এর ফলে ইরাক থেকে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।
মার্কিন সেনাদের বিদায়ের পর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব আরও বেশি করে দেশটির নিজস্ব বাহিনীর ওপর পড়ছে। একই সঙ্গে ইরানে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল