ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে বন্দর আব্বাসে মার্কিন আক্রমণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির কৌশলগত বন্দরশহর বন্দর আব্বাসে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গতকাল বুধবার রাতে ইরানের ছোঁড়া চারটি সামরিক ড্রোন মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এর পরপরই হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর বন্দর আব্বাসে অবস্থিত ইরানের ড্রোন নিক্ষেপণ গ্রাউন্ড স্টেশনে নিখুঁত হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনী যখন এই আঘাত হানে, তখন সেই স্টেশন থেকে পঞ্চম ড্রোনটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলছিল। পেন্টাগনের দাবি, তাদের এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ পরিমিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার স্বার্থে গৃহীত।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বিপরীত এক দাবি করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে অনুপ্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি বিশাল ট্যাংকার জাহাজকে পিছু হটতে বাধ্য করতে ড্রোন ছুড়েছিল দেশটির অভিজাত বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)। এর আগে আরও চারটি বিদেশি জাহাজকে সতর্কতামূলক ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে ওই রুট থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, মাত্র ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ধরা হয়, যার ওপর দিয়ে পৃথিবীর মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) পরিবহন করা হয়ে থাকে।
ভূ-রাজনৈতিক এই সংঘাতের সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদেশি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় আইআরজিসি। সে সময় একের পর এক বিদেশি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা, যাতে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নাবিক প্রাণ হারান। পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, পাল্টা চাল হিসেবে ইরানের সব বন্দরে কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ জারি করে আমেরিকা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায় যখন ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত বিদেশি জাহাজ থেকে জোরপূর্বক ‘টোল’ আদায়ের একটি বিতর্কিত আইন পাস করে। মার্কিন প্রশাসন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সাফ দাবি—যেকোনো বৈশ্বিক উন্মুক্ত জলপথে এভাবে কোনো একক দেশের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা আন্তর্জাতিক সমুদ্র এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ