ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেই কিছুটা কমেছে তেলের দাম

২০২৬ মার্চ ২০ ১৭:২০:৫৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেই কিছুটা কমেছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম সম্প্রতি ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও শুক্রবার (২০ মার্চ) কিছুটা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ফলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার ভোরে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১০৮ ডলারে দাঁড়ায়, আর মার্কিন ডব্লিউটিআই তেল ১.১ শতাংশ কমে ৯৪.৬ ডলারে নেমে আসে।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান সাচ জানিয়েছে, বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে, এমনকি ২০২৭ সাল পর্যন্তও।

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় নতুন হামলা না চালানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আহ্বানে সাড়া দেওয়া হবে। এ ঘোষণার পর বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।

এর আগে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালানো হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেটি টানা ১৯ দিন ধরে কার্যত অচল রয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রণালি আগের অবস্থায় সহজে ফিরবে না।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরবরাহ কম থাকলে আগামী বছরগুলোতেও উচ্চমূল্য বজায় থাকতে পারে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে দাম কমার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে সাম্প্রতিক হামলা জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় তাদের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত