ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধ ঘিরে আরব দেশগুলোর জরুরি বৈঠক, কী সিদ্ধান্ত এলো?

২০২৬ মার্চ ১৯ ২০:৪৯:২৩

ইরান যুদ্ধ ঘিরে আরব দেশগুলোর জরুরি বৈঠক, কী সিদ্ধান্ত এলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাতের রেশ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের নজিরবিহীন পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রিয়াদে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বুধবার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইরানের ‘অনিশ্চিত’ আচরণ মোকাবিলায় সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সম্প্রতি ইরানের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’-এ ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এছাড়া গত এক সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ তিন নেতা—আলি লারিজানি, গোলামরেজা সোলেইমানি এবং ইসমাইল খতিব ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সৌদি আরবসহ মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। দেশগুলো হলো— কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান, তুরস্ক, আজারবাইজান, লেবানন এবং সিরিয়া।

বৈঠক শেষে ইস্যু করা বিবৃতিতে দেশগুলো জাতিসংঘের সনদের ৫১ নং অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে নিজেদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা সম্মিলিতভাবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বৈঠকে ইরানকে চারটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে:

১. প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চালানো সকল প্রকার সামরিক আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করা।

২. আঞ্চলিক দেশগুলোকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক হুমকি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা।

৩. আরব রাষ্ট্রগুলোতে সক্রিয় ইরানপন্থি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা।

৪. হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোতে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করা।

আরব দেশগুলো কেবল ইরানেরই নিন্দা করেনি, বরং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘সম্প্রসারণবাদী’ নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হলেও, সামরিক ক্ষেত্রে এই দেশগুলো পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে বিবৃতিতে এক ধরনের অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ সময় ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা এসব দেশের এই কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত