ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

ইরান যুদ্ধে মার্কিন দুই রণতরীর বর্তমান অবস্থা কেমন?

২০২৬ মার্চ ১৯ ১৮:৫৪:২৪

ইরান যুদ্ধে মার্কিন দুই রণতরীর বর্তমান অবস্থা কেমন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আরব সাগরে অবস্থানরত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তটস্থ হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে মোতায়েন করা বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের পর অকেজো হয়ে মেরামতের জন্য গ্রিসের দিকে রওনা দিয়েছে।

১ লক্ষ টন ওজনের নিমিৎজ শ্রেণির এই ভাসমান বিমানঘাঁটিটি গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইরান উপকূলের অদূরে অবস্থান করছিল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা গত ৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে এই রণতরী লক্ষ্য করে তিনটি বড় ধরনের সফল হামলা চালিয়েছে।

সর্বশেষ ১৮ মার্চের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাহাজটি ইরানের জলসীমা থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরায়েলি কার্যক্রম নস্যাৎ করতে বিমানবাহী রণতরীগুলোই তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎচালিত রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রায় ছিটকে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে জাহাজটিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা নেভাতে নাবিকদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এই আগুনের ফলে রণতরীটির অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ৬০০-র বেশি নৌসদস্যের শোয়ার জায়গা নষ্ট হয়ে যায় এবং তাঁদের মেঝেতে ঘুমাতে হয়। অনেক সদস্য ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে জাহাজটিকে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০ মাস সাগরে মোতায়েন থাকায় ক্রু সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রণতরীগুলোর বিপর্যয়ের পাশাপাশি ইরান দাবি করেছে যে, তাদের সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পঞ্চম নৌবহর’-এর স্থাপনাগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এই জোরালো আঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধজাহাজগুলোর এমন বিপর্যয় মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে জাহাজ দুটির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ মোতায়েন নিয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত