ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

স্বর্ণ না থাকলেও কি নগদ টাকায় জাকাত দিতে হবে?

২০২৬ মার্চ ০২ ২০:৫১:৫০

স্বর্ণ না থাকলেও কি নগদ টাকায় জাকাত দিতে হবে?

ডুয়া ডেস্ক: পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস। এই সময়ে সামর্থ্যবান মুসলমানরা তাঁদের সম্পদের হিসাব করে জাকাত আদায়ের প্রস্তুতি নেন। তবে আমাদের সমাজে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, জাকাত কেবল স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার থাকলেই দিতে হয়। ইসলামি শরিয়তের প্রকৃত বিধান হলো, আপনার আলমারিতে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা নগদ টাকাও জাকাতের আওতাভুক্ত। এমনকি আপনার শরীরে কোনো স্বর্ণালঙ্কার না থাকলেও যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকে, তবে আপনার ওপর জাকাত ফরজ হতে পারে। মূলত সম্পদের এই পবিত্রকরণ প্রক্রিয়া ইসলামের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ।

জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের একটি সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারিত আছে, যাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘নিসাব’ বলা হয়। শরিয়ত অনুযায়ী এর দুটি মৌলিক মানদণ্ড রয়েছে স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৭.৫ তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম) এবং রুপার ক্ষেত্রে ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম)। এই সীমার সমান বা বেশি সম্পদ কারো অধিকারে থাকলেই তাঁকে জাকাত দিতে হয়।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে স্বর্ণ না থাকলে নগদ টাকার হিসাব কীভাবে হবে? এক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত নিয়ম হলো, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে স্বর্ণ বা রুপা না থাকে কিন্তু নগদ টাকা থাকে, তবে জাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে রুপার নিসাবকে মানদণ্ড ধরা হয়। অর্থাৎ, আপনার সঞ্চিত নগদ টাকার পরিমাণ যদি বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ৫২.৫ তোলা রুপার দামের সমপরিমাণ হয়, তাহলে আপনার ওপর জাকাত ফরজ হবে। রুপার নিসাবকে মানদণ্ড ধরার প্রধান কারণ হলো এতে জাকাতদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের দরিদ্র মানুষেরা অধিক উপকৃত হয়।

নগদ টাকার ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। প্রথমত, সেই অর্থের ওপর পূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, সঞ্চিত অর্থ রুপার ‘নিসাব’ এর সমপরিমাণ হওয়া। তৃতীয়ত, এই অর্থ আপনার ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনে (খাবার, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) ব্যবহৃত হওয়ার অতিরিক্ত হতে হবে। চতুর্থত, মোট সম্পদ থেকে ‘তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য ঋণ’ বাদ দেওয়ার পর যদি নিসাব পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তবেই জাকাত দিতে হবে। সবশেষে, এই অর্থ আপনার কাছে এক পূর্ণ চন্দ্রবর্ষ বা ‘হাওল’ স্থায়ী হতে হবে।

হিসাবের নিয়মটি অত্যন্ত সহজ। আপনার নিসাব পরিমাণ টাকা যদি এক বছর গচ্ছিত থাকে, তাহলে মোট জমানো টাকার ২.৫ শতাংশ (অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় ২ টাকা ৫০ পয়সা) জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ, প্রাইজবন্ড কিংবা ব্যবসায়িক মূলধন সবই এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

মনে রাখবেন, জাকাত কেবল ধনিক শ্রেণির দয়া নয়, বরং এটি দরিদ্রের প্রাপ্য অধিকার এবং সম্পদ বৃদ্ধি ও পবিত্র করার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমেই সম্পদে মহান আল্লাহর বরকত লাভ করা সম্ভব। তাই দেরি না করে নিজের সঞ্চিত অর্থের হিসাব করে জাকাত আদায় করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত