ঢাকা, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
৬ নবজাতকের মৃ'ত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অল্প সময়ের ব্যবধানে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঘটনায় হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ’ বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে হবে। ইতোমধ্যে নোটিশটি হাসপাতালের প্রধান ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টার মধ্যে এর জবাব জমা দিতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছোট একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরদিন ২৮ মে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কমিটি বুধবার এবং অধিদপ্তরের কমিটি বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও ত্রুটির চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুপযুক্ত অবকাঠামো, অক্সিজেন স্বল্পতা, নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত রোগী ভর্তি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে সেটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। ঘটনার দিন এসি বন্ধ থাকায় ছোট কক্ষে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সংকটময় সময়ে নবজাতকদের স্বজনরা বারবার সহায়তা চাইলেও দায়িত্বরত নার্সদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি।
এ ছাড়া ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কোনো জরুরি ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কোনো যোগ্য চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর লাইসেন্স প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট ভবনের উপযোগিতা সরেজমিনে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনায় নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩১ আগস্ট)
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত