ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
উচ্চশিক্ষায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আনবে দুই বৈপ্লবিক পরিবর্তন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার চিরাচরিত কাঠামোয় এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে যাচ্ছে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ (ঢাকেবি)। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও দোদুল্যমানতার অবসান ঘটিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূলত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ঢাকেবি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি কার্যকর ও বাস্তব উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়।’
ঢাকেবি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এক ধরণের টানাপোড়েনের শিকার ছিল। বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ আগ্রহে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষক বা শিক্ষা কার্যক্রম তখনই অর্থবহ হয় যখন সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। তাই ঢাকেবি পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর সাতটি প্রথিতযশা কলেজকে একক প্রশাসনিক ছায়াতলে পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ফায়েজ বেশ আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় একই ধরণের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়েছে। তাঁর মতে, ‘বর্তমানে যে নতুন মডেলটি গৃহীত হয়েছে, তা পূর্ববর্তী দুই ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই প্রণীত।’ তবে এবারের কাঠামোটি গুণগতভাবে অনেক বেশি আধুনিক এবং যেহেতু সাতটি ক্যাম্পাসই ঢাকা মহানগরীর ভেতরে অবস্থিত, তাই এর সমন্বয় সাধন অনেক বেশি সহজ ও বাস্তবসম্মত হবে।
বিশ্বজুড়ে মাল্টি-ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বহু সফল উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে ড. ফায়েজ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে রাজধানীর এই সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানকে একক কাঠামোয় সফলভাবে চালানো সম্ভব। তিনি মনে করেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার একটি বিশাল শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীকে একটি সুসংহত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। এটি কেবল একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; বরং একটি নতুন একাডেমিক দর্শনের প্রতিফলন।’ প্রতিটি ক্যাম্পাসের নিজস্ব ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে একটি দক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পরিশেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল একটি ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হবে না, বরং এটি তাঁদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক আত্মপরিচয় বা ‘আইডেন্টিটি’ তৈরি করবে। এটি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সেশনজটমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। উচ্চশিক্ষার এই নতুন মডেলটি ভবিষ্যতে অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ববি হাজ্জাজের
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঈদের চামড়া বিক্রিতে হতাশ বিক্রেতারা
- ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী