ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

৫০ আসনে ফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: জামায়াত

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৮:৫৬:৩৩

৫০ আসনে ফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলেও ভোট গণনার পর্যায়ে সুপরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে ৫০টিরও বেশি আসনে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেছেন, দিনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বড় ধরণের সংঘাতহীন হলেও ফলাফল ঘোষণার শেষ ধাপে এসে কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে মহানগর জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে হতাশা ও আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভোটাররা সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারলেও অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, সহিংসতার মতো বড় ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচনের পরে ভোট গণনা, রেজাল্ট তৈরি করা এবং রেজাল্ট ঘোষণার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী অনেক সংসদীয় আসনে এক-দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, এরকম আসনের সংখ্যা হবে পঞ্চাশটির ঊর্ধ্বে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকবে না। “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছি, বিধি অনুযায়ী যে নির্বাচনের ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে, সেখানেও আমরা আমাদের অভিযোগগুলো নিয়ে যাব এবং সেইসব আসনের ভোটের পুনর্গণনা ও যে অনিয়ম হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাব।”

নির্বাচনকালীন জনজোয়ারের কথা স্মরণ করে তিনি মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রতি এই অভূতপূর্ব সমর্থন কেবল দলকেই নয়, বরং মিডিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, “দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখরিত করে তারা রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেছে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার সময়। আর ভোটকেন্দ্রে যেভাবে ভোটারের উপস্থিতি এবং দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় আমরা দেখতে পারছিলাম, ভোট গণনার সময়ও সারা দেশ থেকে খবর পাওয়া গেছে, একের পর এক আমাদের আসনগুলো থেকে বিজয়ের খবর আসতে থাকল, সব আপনারা জানেন। আর পক্ষান্তরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিডিয়ায় ফলাফল বন্ধ করে দিল।”

দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই হঠকারী বা সহিংস পথ বেছে নেবে না। তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার এবং জনগণের পাশে থাকবে। তবে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আমাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সততা, সরলতা, বিনয়, ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। আপনার যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে মানুষের উপর হামলে পড়ছেন, এটা থেকে আমরা সংযত থাকব।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের শুরুতেই এ ব্যাপারে আমরা আদর্শের মোকাবিলা আদর্শ দিয়ে করব, চরিত্রের মোকাবিলা চরিত্র দিয়ে করব, নৈতিকতার মোকাবিলা নৈতিকতা দিয়ে করব, যুক্তির মোকাবিলা যুক্তি দিয়ে করব।”

সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমির ড. মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষে কর্মীদের রাজপথে ধৈর্য ধরে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

রাজনীতি এর অন্যান্য সংবাদ