ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জামায়াতের

২০২৬ জুন ০১ ১৬:৫১:১২

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনা নিন্দনীয়। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

সোমবার (১ জুন) এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আজ সকাল থেকে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকেরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থেই তারা এ আন্দোলন করছিলেন।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরীহ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে বহু আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের এ অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। বিগত দিনে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারও ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে। নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি এবং ব্যাংকের স্বার্থে কথা বলা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশের গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও আহ্বান জানান, বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোটি কোটি আমানতকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত