ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ২৩:১২:২৮

অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, সময় এসেছে প্রচলিত ধারা ভেঙে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এগিয়ে যাওয়ার। তার ভাষায়, আগামী দিনে অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার—দুটো ক্ষেত্রেই “বৈপ্লবিক পরিবর্তন” দেখা যাবে।

চট্টগ্রামে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। বিগত সময়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও জোরালো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি’ বা বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরির সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আসন্ন অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না; বরং অর্থনীতিকে মুক্ত ও গতিশীল করার একটি সুনির্দিষ্ট দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। তার মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। অর্থনীতির বৃহত্তর সংস্কারের সঙ্গে পুঁজিবাজারের সংস্কার সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাজার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে।

গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন সরকারের লক্ষ্য চট্টগ্রামকে কাগুজে ঘোষণা নয়, বাস্তব অর্থেই একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে বন্দরনগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এই দুই বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল ভোগ করতে পারবেন। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের প্রতিটি নীতি ও পদক্ষেপ এখন থেকে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে। অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে যে পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত