ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

একীভূতকরণ ও পুনর্গঠনে বিএসইসি’র ক্ষমতা বাড়ছে

২০২৬ মে ২৪ ১২:২১:৪৭

একীভূতকরণ ও পুনর্গঠনে বিএসইসি’র ক্ষমতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ, বিভাজন এবং অন্যান্য কর্পোরেট পুনর্গঠন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কর্পোরেট পুনর্গঠন) বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক এই খসড়াটি গত ২৩ মে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর ওপর সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি আহ্বান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি অন্য কোনো তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাথে একীভূতকরণ বা পুনর্গঠন করতে চাইলে, আদালতের অনুমোদন নেওয়ার আগেই খসড়া স্কিমটি বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে পর্যালোচনার জন্য জমা দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ এই আবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায়শই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন, তথ্যের পর্যাপ্ত প্রকাশ এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করাই এই বিধিমালার প্রধান লক্ষ্য।

বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোম্পানিগুলোকে যেকোনো পুনর্গঠন প্রস্তাবের জন্য প্রথমে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে এবং অনুমোদিত খসড়া স্কিমটি বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং এক্সচেঞ্জের পর্যবেক্ষণগুলো স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার পর, আদালতে যাওয়ার আগে শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। তবে এই নিয়ম কোম্পানি বা আদালতের ক্ষমতা খর্ব করবে না, বরং বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ এখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় পর্ষদকে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, মূল্যায়নের স্বচ্ছতা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর এর প্রভাবের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত রেকর্ড করতে হবে।

নতুন বিধিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সম্পদের মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া। পুনর্গঠনে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে বিএসইসি’র তালিকাভুক্ত অডিট ফার্ম বা নিবন্ধিত মার্চেন্ট ব্যাংকারদের মধ্য থেকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী নিয়োগ করতে হবে। তবে ওই নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা অডিট ফার্ম সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ অডিটর বা কর্পোরেট উপদেষ্টা হতে পারবে না। মূল্যায়নকারীকে প্রত্যয়ন করতে হবে যে, শেয়ার বিনিময়ের অনুপাত যৌক্তিক এবং এতে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা পাওনাদার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। শুধু বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যায়ন করা যাবে না। খসড়া অনুযায়ী, অন্তত দুটি পরম মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং দুটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া, মূল্যায়নে ব্যবহৃত ডিসকাউন্ট রেট ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের আয়ের চেয়ে কম হতে পারবে না এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন গত ৫ বছরের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি দেখানো যাবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ পাওয়ার পর সংশোধিত স্কিমটি বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার ও পাওনাদারদের সামনে পেশ করতে হবে। এই স্কিম অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যতীত বাকি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে। একই সাথে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বন্ডহোল্ডারদের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিএসইসি প্রয়োজনে আদালতের কার্যধারায় একটি পক্ষ হিসেবে অংশ নিতে পারবে এবং ব্যাকডোর লিস্টিং বা রিভার্স টেকওভারের মতো কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, তাও কোম্পানিগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার আগে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণায় দেশের বাজারে প্রতি ভরি... বিস্তারিত