ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিনিয়োগকারীর অর্থ ফেরতে বিএসইসির কঠোর নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব থেকে অনুমতি ছাড়া অর্থ তুলে তা জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনায় ব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে ব্রোকারেজ হাউস আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটিকে গ্রাহকের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় তাদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের গ্রাহক মো. গোলাম রহমান ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল তার অজান্তে বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। ওই অর্থ তিনি মূলত সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে শেয়ার কেনার জন্য জমা রেখেছিলেন।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বহুবার মৌখিক ও লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও ব্রোকারেজ হাউসটি কোনো কার্যকর সমাধান দেয়নি। তিনি ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১০ এপ্রিল পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও তা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়।
অন্যদিকে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গ্রাহকের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার জন্য ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, সে সময় জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহকও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
তবে বিএসইসির তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের পক্ষে কোনো লিখিত অনুমতি, রিকুইজিশন স্লিপ কিংবা সহায়ক নথি দেখাতে পারেনি আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ। এমনকি ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ডিএসইতে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, অর্থ উত্তোলনের জন্য গ্রাহকের কোনো লিখিত অনুমোদন তাদের কাছে ছিল না।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রোকারেজ হাউসটি। পাশাপাশি গ্রাহকের ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অসংলগ্ন ও প্রমাণহীন তথ্য উপস্থাপনের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
বিএসইসির তদন্তকারীরা মনে করছেন, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৮সহ স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি বিধিমালার একাধিক বিধান লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে গ্রাহকের ফান্ড অননুমোদিতভাবে স্থানান্তর এবং বিনিয়োগকারীর অভিযোগ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করার বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি গত ১২ মে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে নির্দেশ দেয়, ৩০ দিনের মধ্যে মো. গোলাম রহমানকে তার ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে কমিশনের অনুকূলে ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ জমা না দিলে পরবর্তীতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন