ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যমুনা সেতুতে ৪ দিনে টোল আদায় ১৪ কোটি টাকা

২০২৬ মে ২৯ ১১:৪১:৩০

যমুনা সেতুতে ৪ দিনে টোল আদায় ১৪ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু দিয়ে মাত্র ৪ দিনে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় দুই লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত ২৪ মে থেকে শুরু করে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২৯৩টি যানবাহন এই সেতু পার হয়। বিপুল পরিমাণ এই যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের মোট টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঈদযাত্রার প্রথম দিন ২৪ মে সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়, যার বিপরীতে টোল আদায় হয় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২২ হাজার ১১২টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ milled ৩৫০ টাকা এবং ঢাকাগামী ১৭ Client ৮০৭টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়।

পরের দিন ২৫ মে একলাফে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ২৪৬টিতে। এদিন মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি গাড়ির টোল ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা এবং ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০টি গাড়ির টোল ছিল ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন ২৬ Encounter চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়। এতে মোট টোল আসে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩৬ হাজার ৪২৬টি গাড়ি থেকে ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৮১৩টি গাড়ি থেকে ১ কোটি ৬১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা আদায় করা হয়।

সবশেষে ঈদের আগের দিন ২৭ মে সেতু দিয়ে পার হয় ৪৫ হাজার ৮৮৯টি যানবাহন, যা থেকে টোল আসে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৬৫০ টাকা। এদিন উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৯০৭টি গাড়ি থেকে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ঢাকাগামী ১২ হাজার ৯৮২টি গাড়ি থেকে ১ কোটি ১১ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় করা হয়।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রার শেষ দিন বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গগামী অতিরিক্ত যানবাহনের তীব্র চাপের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষকে প্রায় ২০ ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরবর্তীতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের যৌথ ও নিরলস প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঈদযাত্রায় নির্বিঘ্নে গাড়ি পারাপারের জন্য এবার সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি ডিজিটাল বুথ চালু রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে দ্রুত গতিতে বাইক পার করার জন্য উভয় পাশে আলাদা দুটি করে বুথ নির্দিষ্ট ছিল। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা সাধারণ মানুষের ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রেও আমাদের একই ধরনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও তৎপরতা বজায় থাকবে।”

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত