ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে চলছে পশু কোরবানি

২০২৬ মে ২৯ ১০:৩৮:০১

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে চলছে পশু কোরবানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানির ব্যাপক ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের প্রথম দিনে চাহিদামতো কসাই না পাওয়া, উপযুক্ত স্থানের সংকট কিংবা ব্যক্তিগত নানাবিধ সমস্যার কারণে যারা কোরবানি দিতে পারেননি, তাদের অনেকেই আজ ধর্মীয় রীতি মেনে পশু কোরবানি করছেন। সকাল থেকেই উত্তরার আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, মিরপুর, মান্ডা, বাড্ডা ও মোহাম্মদপুরসহ মহানগরের বিভিন্ন প্রান্তে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের চিরচেনা দৃশ্য দেখা গেছে।

শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বাসাবাড়ির নিচে ও নির্ধারিত ফাঁকা স্থানে নগরবাসী গরু ও ছাগল কোরবানি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও পরিবারের সদস্যরা মিলে মাংস ভাগ-বাটোয়ারার কাজে হাত লাগিয়েছেন, আবার কোথাও পেশাদার কসাইদের সহায়তায় চলছে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার কাজ। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, প্রথম দিনের তুলনায় আজ রাজপথে ও বাসাবাড়িতে কোলাহল ও ভিড় কম থাকায় বেশ স্বস্তি ও নিরিবিলিতে কোরবানি সম্পন্ন করা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের প্রথম দিনে একসঙ্গে কোটি মানুষ কোরবানি দেওয়ায় কসাইদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকে। ফলে চড়া দাম দিয়েও অনেকে প্রথম দিন কসাই মেলাতে পারেন না। আবার কোথাও নির্ধারিত কোরবানি স্পটগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকেই স্বেচ্ছায় কোরবানি একদিন পিছিয়ে দেন। দ্বিতীয় দিনে সেই চিরচেনা চাপ ও তাড়াহুড়ো অনেকটাই কমে আসায় আজ তুলনামূলক সহজেই কাজ শেষ করতে পারছেন তারা।

এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকার বাইরে থেকে বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক মানুষ মৌসুমি কসাই হিসেবে রাজধানীতে এসেছেন। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় কয়েকদিনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ দ্বিতীয় দিনে মাঝারি ও বড় আকৃতির একটি গরু কাটাকুটি ও প্রস্তুত করতে কসাইরা মজুরি নিচ্ছেন প্রায় ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে একটি ছাগল প্রস্তুত করতে নেওয়া হচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। তবে এলাকা এবং পশুর আকারভেদে এই মজুরির হারে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।

আজ জুমার দিন হওয়ায় অনেকেই সকাল সকাল কোরবানি পর্ব শেষ করার তাগিদ দেখিয়েছেন। এদিকে দ্বিতীয় দিনের এই কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যাতে শহরের পরিবেশ দূষিত করতে না পারে, সেজন্য ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও বেশ তৎপর থাকতে দেখা গেছে। ময়লা জমার সাথে সাথেই তা ট্রাকে করে সরিয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা।

উল্লেখ্য, ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখ (ঈদের প্রথম দিন) ছাড়াও পরবর্তী ১১ ও ১২ জিলহজ অর্থাৎ ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই ধর্মীয় অবকাশের কারণেই প্রতি বছর ঈদের পরের দিনগুলোতেও রাজধানীতে কোরবানির এই ধারাবাহিক উৎসবমুখর আমেজ বজায় থাকে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত